সিলেট ৭ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

ধর্ষণ রোধে ইসলামের দিক নির্দেশনা

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ৮, ২০২২, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
ধর্ষণ রোধে ইসলামের দিক নির্দেশনা
অন্যজনকে শেয়ার করুন⤵️Share with others

মহান আল্লাহ পাক মানুষকে কুপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করতে যত পন্থা আছে, সবগুলো থেকে নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখতে আদেশ করেছেন ।

ব্যভিচার, পুংমৈথুন, দুই নারীর পারস্পরিক ঘর্ষণ যাতে কামভাব পূর্ণ হয়, হস্তমৈথুন ইত্যাদি সবগুলো অবৈধ ও হারাম কর্মের অন্তর্ভুক্ত। একজন পুরুষ একজন নারীর সাথে কামপ্রবৃত্তিতে লিপ্ত হওয়ার প্রথম ও প্রারম্ভিক কারণ হচ্ছে দৃষ্টিপাত করা ও দেখা যার সর্বশেষ পরিণতি হয় ব্যভিচার।

তাবারানী রহ. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযি.) থেকে বর্ণনা নকল করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন- النظر سهم من سهام إبليس مسموم من تركها مخافاي ابدلته إيمانا يجد حلاوته في قلبه

অর্থাৎ- দৃষ্টিপাত শয়তানের একটি বিষাক্ত শর । যে ব্যক্তি মনের চাহিদা সত্ত্বেও দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়, আমি তার পরিবর্তে তাকে সুদৃঢ় ঈমান দান করব, যার মিষ্টতা সে অন্তরে অনুভব করবে।

যিনা ও ধর্ষণের পরিচয়
যিনা বা ব্যভিচার বলতে বুঝায় ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিবাহ বন্ধন ছাড়া অবৈধ পন্থায় যৌন তৃপ্তি লাভ করাকে। তাই বিবাহবহির্ভূত যে কোনো যৌনচার, সঙ্গম বা অপরাধকে “যিনা” বা ব্যভিচার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ধর্ষণ এটাও এক ধরনের যৌন আক্রমণ। সাধারণত একজন ব্যক্তির অনুমতি ব্যতিরেকে তার সঙ্গে যৌনসঙ্গম বা অন্য কোনো ধরনের যৌন অনুপ্রবেশ ঘটানোকে ধর্ষণ বলা হয়।ধর্ষণ শারীরিক বলপ্রয়োগ, অন্যভাবে চাপ প্রদান কিংবা কর্তৃত্বের অপব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত হতে পারে।

যিনা বা ধর্ষণের হুকুম
যিনা-ব্যভিচার বা ধর্ষণ সুস্পষ্ট হারাম ও নিন্দনীয় অপরাধ। তাছাড়াও, পুংমৈথুন, দুই নারীর পারস্পরিক ঘর্ষণ যাতে কামভাব পূর্ণ হয়, হস্তমৈথুন ইত্যাদি সবগুলো অবৈধ ও হারাম কর্মের অন্তর্ভুক্ত।মহান আল্লাহ্ পাক বলেন, “আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ”। (বণী ইসরাইল- ৩২)।

যিনা বা ধর্ষণের কারণ
যিনা ও ধর্ষন এমন একটি বৃহৎ অপরাধ; তদুপরি সে নিজের সাথে আরো শতশত অপরাধ নিয়ে আসে এবং সমগ্র মানবতার ধ্বংসের আকারে এর ফলাফল প্রকাশ পায়।

পৃথিবীতে যত হত্যা ও লুণ্ঠনের ঘটনাবলি সংঘটিত হয় অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে যে, অধিকাংশ ঘটনার কারণ কোনো নারী ও তার সাথে অবৈধ সম্পর্ক। এমনকি নারী নির্যাতনের জঘন্যতম মাধ্যম হচ্ছে দেহ ব্যবসা।বর্তমান আবাসিক হোটেল, স্কুল, কলেজ ও ভার্সিটির ছাত্রাবাস বা ক্যাম্পাসে চলছে ছেলে মেয়েদের যৌন চাহিদা পূরণের রমরমা দেহ ব্যবসা । লাঞ্ছিত ও সতীত্ব নষ্ট করা হচ্ছে পিতা-মাতার স্নেহের কন্যা সন্তানদের।

চরিত্রের উপর ব্যভিচারের অভিযোগ নিয়ে সোনার ছেলেরা তাদের পিতা মাতার কাছে ফিরতেছন । অথচ এব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশ হল “তোমাদের অধীনস্তদের তোমরা অবৈধ বৃত্তিতে (দেহব্যবসায়) বাধ্য কর না… ”। (সূরা নূর- ৩৩)।

কোন ব্যক্তির কন্যা, ভাগিনী ও স্ত্রীর উপর হাত রাখা তাকে ধ্বংস করার নামান্তর । সম্ভ্রান্ত মানুষের কাছে ধন-সম্পদ, সহায়-সম্পত্তি ও নিজের সর্বস্ব কুরবানি করা ততটুকু কঠিন নয় যতটুকু কঠিন তার অন্দর মহলের উপর হাত রাখা ।

এ কারণেই দুনিয়াতে প্রতিনিয়ত এ ধরনের ঘটনা সংঘটিত হয় যে, যাদের অন্দরমহলের উপর হাত রাখা হয়, তারা জীবনপণ করে ব্যভিচারীর প্রাণ সংহার করতে উদ্যত হয় এবং এই প্রতিশোধস্পৃহা বংশের পর বংশকে বরবাদ করে দেয়।

যে সম্প্রদায়ে ব্যভিচার ব্যাপক আকার ধারণ করে, সেখানে কারো বংশই সংরক্ষিত থাকে না । চিন্তা করলে দেখা যায় যে, জগতের যেখানেই অশান্তি ও অনর্থ দেখা দেয়, তার অধিকাংশ কারণই নারী এবং অর্থ সম্পদ । তবে অর্থ সম্পদের চেয়ে নারীর কারণে সমস্যা সৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি থাকে।তাছাড়াও অশ্লীলতা ও নির্লজ্জতা নারী নির্যাতনের অনুঘটক। বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের মতো নব্বই শতাংশ মুসলিম অধিবাসীর দেশ বাংলাদেশে আজ নারীর ইজ্জত সম্ভ্রম নিরাপদ নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১