মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন

আমার মাস্কে সবার সুরক্ষা

ডা: মো: আব্দুল হাফিজ (শাফী): / ৭৭ বার পঠিত
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন

বিশ্বব্যাপী যখন করোনার নতুন ধরনের বিষয়ে শঙ্কা বাড়ছে, তখন বাংলাদেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার গতি ক্রমেই নিম্নমুখী। এই অবস্থার অবসান না হলে দেশে আবারও সংক্রমণ বাড়তে পারে, যা কখনোই আমাদের কাম্য নয়।

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নতুন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে যে তথ্য এসেছে তাতে ওমিক্রনে পুরুষের চেয়ে নারীর আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যাই বেশি দেখা যাচ্ছে।

আগে নাকের ঘ্রাণ চলে গেলেই সবাই আতংকিত হয়ে যেতেন করোনা হয়ে গেল কিনা তবে এবারের ওমিক্রন নিয়ে গভেষনা বলছে আক্রান্তদের স্বাদ এবং গন্ধের অনুভূতির কোনো বদল হয় না। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সব ওমিক্রন আক্রান্তেরই গলা খুশখুশ করছে। তাই এই সময়ে শুকনো কাশির সাথে স্বরভঙ্গ হলে অবশ্যই কোভিড পরীক্ষা করাতে হবে।

কেউ কেউ বলে থাকেন ভ্যাক্সিন নিয়েছেন তো মাস্ক পরবেন কেন? স্বাস্থ্য বিধি মানতে হবে কেন?বিশেষজ্ঞগণ বলছেন টিকা মৃত্যু ঝুঁকি কমাবে; রোগের তীব্রতা কমাবে।

কিন্তু টিকা গ্রহণ করলেও সংক্রমিত হবার চান্স আছে। তাই টীকার পর মাস্ক পরিধানই সুরক্ষার অস্ত্র হিসেবে এখন কাজ করবে। মাস্ক ব্যবহার করে যদি উপকার পেতে হয় তবে সেটা পরতে হবে সঠিকভাবে।

মাস্কটি এমনভাবে পরুন যাতে মুখ, নাক এবং চিবুক ভালোভাবে ঢেকে থাকে এবং পাশে কোনো ফাঁক না থাকে। মাস্ক পরা অবস্থায় স্বাচ্ছন্দ্যে নিঃশ্বাস নেওয়া যাচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত হোন। বদলাতে হবে নিয়মিত অর্থাৎ সার্জিক্যাল মাস্ক একাধিক বার ব্যবহার করা যাবে না।

কাপড়ের মাস্কগুলো প্রতিদিন ব্যবহারের পর সঠিক নিয়মে ধুয়ে ব্যবহার করতে হবে।ধোয়ার পরে মাস্কটি পুনরায় পরার আগে ভালভাবে শুকানো উচিত। ব্যবহৃত মাস্ক যেখানে সেখানে ফেলা যাবে না, এক্ষেত্রেও নিরাপত্তা নির্দেশিকা মানতে হবে।

২০১৬ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসের একটি সমীক্ষায় বলা হয়, মানুষ প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ২৩ বার হাত দিয়ে মুখ স্পর্শ করে। তাই বলা যায় হাত থেকে মুখের সংক্রমণের বিরুদ্ধেও মাস্ক ব্যবহারে কিছু সুরক্ষা পাওয়া যাবে।

সর্বোপরি পাড়ায় পাড়ায়, মসজিদের মাইকে, মন্দিরে, রেডিও, টিভিতে এমনকি ফেসবুকেও ঢালাওভাবে সঠিক নিয়মে মাস্ক ব্যবহারের প্রচারাভিযান চালিয়ে যেতে হবে নতুন সংক্রমণ ঠেকাতে। মাস্ক ব্যবহার সহ স্বাস্থবিধি মানাতে হলে এসব প্রচারনা চালাতে হবে জরুরী ভিত্তিতে শহর নগর বন্দরে।

লেখক:
ডা: মো: আব্দুল হাফিজ (শাফী) ;
এফসিপিএস (ইএনটি) ; বিসিএস (স্বাস্থ্য);
নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ, সিওমেক হাসপাতাল।


এই ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর