মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন

নতুন বছরের স্বাস্থ্যভাবনা

ডাঃ মোঃ আব্দুল হাফিজ (শাফী) / ৬৪ বার পঠিত
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন

বিদায়ী বছরকে ছাপিয়ে মন কে উৎফুল্ল করে তোলে নতুন বছরের আগমনী বার্তা। ক্যালেন্ডারের শেষ পাতাটি ছিড়ে অথবা দেয়াল থেকে সরিয়ে একসঙ্গে উচ্চারিত হয় হ্যাপি নিউ ইয়ার।

নতুন দিনের সূচনায় প্রয়োজন নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নতুন করে নজর দেয়ার। বর্তমান যান্ত্রিক কর্মব্যস্ততার সময়ে আমাদের যে ধরনের জীবনযাপন করতে হয় সে কারণে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়ার ঝুঁকি থাকে। জনবহুল নগরজীবনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘরের তৈরি খাবারের বদলে বাইরের খাবার খাওয়ার প্রবণতা বহুগুণ বেড়েছে।

অনলাইনে বাইরের খাবারের সহজলভ্যতাও নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করেছে। খাবারের জন্য এখন আর ঘরের বাইরে যেতে হয় না ; বরং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মুহূর্তেই ঘরে পৌঁছে দেয়। প্রযুক্তি-প্রভাবিত সময়ে মানুষের মধ্যে খুব অল্পতে উত্তেজনা, দুশ্চিন্তার মাত্রাও বেড়েছে। কায়িক পরিশ্রমের পরিমাণ ও পরিসর কমেছে।

আজকাল অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে যানবাহনের বহুল ব্যবহার বাড়ায় লোকজন সচরাচর হাঁটাচলা কম করে থাকেন। সামান্য দূরত্বেও যানবাহন ব্যবহার করতে দেখা যায়। শারীরিক এই নিষ্ক্রিয়তার ফলে আমাদের শরীরে নানা অসুখ বাসা বাঁধছে। তা ছাড়া অসুস্থ হওয়ার কিছু বংশগত কারণ তো রয়েছেই। যেমন : ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ইত্যাদি।

রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা করার থেকে রোগ শরীরে বাসা বাঁধার আগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। তাই বছরে একবার হলেও চিকিৎসকের কাছে গিয়ে হেলথ চেকআপ করানোর অভ্যাস করা উচিত, আর বয়স চল্লিশোর্ধ হলেতো কথাই নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে রোগী চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করায় রোগ জটিল হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে অনেক সময় হয়তো চিকিৎসকের আর কিছুই করার থাকে না। এ ছাড়া বর্তমানে আমাদের লাইফ স্টাইল পরিবর্তনের কারণেও অনেক ধরনের অসুখ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যেমন : অতিরিক্ত ফাস্টফুড গ্রহণ করা, নিয়মিত ব্যায়াম না করা, রাতজাগার অভ্যাস, কম ঘুমানো ইত্যাদি কারণে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।

এসব অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে যদি প্রাথমিক অবস্থা থেকেই সতর্ক থাকা যায় তাহলে রোগ জটিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। আগে থেকে সচেতন হলে কঠিন অসুখ হওয়ার প্রবণতাও অনেকটাই কমে যায়। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা ছাড়াও আসুন নতুন বছরে নিজেদেরকে আরেকটু সুশৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত করে তুলি। আর সেজন্য নিয়মিত শরীরচর্চার জন্য জনপ্রিয় হয়ে ঊঠা আমাদের আশেপাশের যেকোন রানার্স কমিউনিটি অথবা সাইক্লিং কমিউনিটিতে যোগ দিতে পারি। মনে রাখতে হবে, সুস্থ দেহে সুস্থ মন বিরাজ করে। নতুন বছরে আমাদের সৃজনশীলতা, কর্মোদ্দীপনা ও সফলতা নির্ভর করবে আমাদের সার্বিক সুস্থতার উপর। আর এই সুস্থ্যতা মহান সৃষ্টিকর্তার এক অশেষ নিয়ামত।

লেখক-
ডাঃ মোঃ আব্দুল হাফিজ (শাফী);
এফসিপিএস (ইএনটি),
নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ এবং হেড-নেক সার্জন ,
সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।


এই ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর