মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০১:১৪ পূর্বাহ্ন

বিশাল আকাশের নিচে ল্যাম্প পোস্টের আলোয় আকাশ!

সিলেটের বার্তা ডেস্ক : / ৫৫ বার পঠিত
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০১:১৪ পূর্বাহ্ন

রাস্তার ল্যাম্পপোস্ট থেকে নিয়ন আলো ঠিকরে পড়ছে ওর মাথায়, ঘাড়ে- পিঠে। মুখটা নিচু। কোনোদিকে দৃষ্টি নেই। এক টুকরো মলিন পলিথিনের উপর বসে আনমনে সাদা কাগজে ছবি আঁকার চেষ্টা করছে সে। পাশ দিয়ে হর্ন বাজিয়ে সবেগে ছুটে চলা যান্ত্রিক বাহনের বিকট শব্দেও কাঁপছে না তার হাত।

শীতের রাত যত গভীর হবে- একপেট ক্ষুধা নিয়ে ক্লান্ত শিশুটি হয়তো হাত-পা ভেঙে শুয়ে পড়বে টাইলস লাগানো দামি ফুটপাতের উপর বিছানো বিবর্ণ পলিথিনে। তার জীবনের আরেকটি দুঃস্বপ্নের রাত পেরিয়ে ক্ষুধার পাশাপাশি জলতেষ্টা নিয়ে পরদিন সকালে ঘুম ভাঙবে সূর্যের ডাকে।

নাম আকাশ। এটি পিতা-মাতার দেওয়া নাম কি-না সে বলতে পারে না। জানে না তার পিতা কে। মা কোথায়। চার বছর ধরে ইট-পাথর আর নিয়ন আলোর শহর সিলেটে ফুটপাতে রাত কাটানো আকাশের বয়স অনুমানিক ১০ বছর।

মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যারাত। নগরীর চৌহাট্টায় সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের সামনের ফুটপাতে ল্যাম্পপোস্টের হলদেটে আলোর নিচে আনমনে একটি সাদা কাগজে ছবি আঁকছিলো আকাশ। বিষয়টি নজর কাড়ে চ্যানেল এস ইউকে’র সিলেট ব্যুরো চিফ মঈন উদ্দিন মঞ্জুর।

আলাপকালে আকাশ জানায়, তার পৈত্রিক বাড়ি হবিগঞ্জ জেলায়। তবে হবিগঞ্জের কোথায় সে জানে না। পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান সে- শুধু এটুকু বলতে পারে। ৪ বছর আগে বাবার সঙ্গে সে সিলেট শহরে এসেছিলো। তাকে এখানে রেখেই বাবা চলে যান। এরপর থেকে সিলেট নগরীর বিভিন্ন স্থানে ফুটপাতে রাত কাটায় সে। ফুটপাতে থাকতে থাকতে এক সময় পরিচয় হয় রোকেয়া নামের এক মহিলার সঙ্গে। এখন রোকেয়াই তার ‘দেখভাল’ করেন। তবে চল্লিশোর্ধ রোকেয়াও আকাশের মতো সিলেট শহরে ফুটপাতের বাসিন্দা। তাদের দুজনেরই নেই মাথাগোঁজার কোনো ঠাঁই।

রোকেয়া বেগম জানান, এই শহরে আকাশের কেউ নেই। ফুটপাতে রাত কাটানোর সুবাধে আকাশের সঙ্গে তার পরিচয়। সে এখন রোকেয়ার সঙ্গেই চৌহাট্টাসহ আশপাশ এলাকার ফুটপাতে রাত কাটায়। আকাশকে রোকেয়া ছেলের মতোই দেখেন।

সোমবার সন্ধ্যায় রোকেয়ার কাছে আকাশ বায়না ধরে, তাকে ছবি আকার বই ও রংপেন্সিল কিনে দিতে। কিন্তু সে সামর্থ নেই একবেলা ভাত জুটাতে না পারা রোকেয়ারও। বিষয়টি জেনে মানবিকতার তাগিদে আকাশকে ছবি আকার কয়েকটি বই ও রংপেন্সিল কিনে দেন সাংবাদিক মঈন উদ্দিন মঞ্জু।

বিভিন্ন সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সাংবাদিক মঈন উদ্দিন মঞ্জু সিলেটভিউ-কে বলেন, একটি কাজে চৌহাট্টা পয়েন্ট দিয়ে যাচ্ছিলাম। ল্যাম্পপোস্টের আলোয় ফুটপাতে বসে সাদা কাগজে ওই ছেলেটির ছবি আকার বিষয়টি আমার নজর কাড়ে। আমি তাকে ছবি আকার বই ও রংপেন্সিল কিনে দিয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (ইমজা) সিলেটের পক্ষ থেকে এর আগে ৮-১০জন পথশিশুর জন্য সরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। এই শিশুটির জন্যও কিছু করা যায় কি না দেখবো। পাশাপাশি সিলেটের বিত্তশালীদের কাছে জোর আবদার করবো- আকাশসহ এই শহরের পথশিশুগুলোর মাথাগোঁজার ঠাই গড়ে দিতে তারা যেন এগিয়ে আসেন এবং বৃহৎ আকারে উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

 

সূত্র: সিলেটভিউ


এই ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর