মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন

শিশুর এডিনয়েড গ্রন্থির সমস্যা

ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী: / ৯৩ বার পঠিত
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত

শীতে শিশুদের বিভিন্ন অসুখ দেখা দেয়। এ সময় সর্দি-জ্বর খুব সাধারণ সমস্যা। দীর্ঘ ঠান্ডা-কাশিসহ অন্যান্য কারণে শিশুর নাকের পেছনে মাংস বেড়ে যেতে পারে। এমনটি হলে শিশুর শ্বাস নিতে ও ছাড়তে কষ্ট হয়। শিশু হাঁ করে ঘুমায়, নাক ডাকার মতো শব্দ হয় এবং এমনকি হঠাৎ দম বন্ধ হয়ে ঘুম থেকে উঠে যেতে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, ঘন ঘন সর্দি লাগার কারণে নাকের পেছনে এডিনয়েড নামক লসিকাগ্রন্থি বড় হয়ে যায়।

এডিনয়েড গ্রন্থি কী

নাকের পেছনে এডিনয়েড গ্রন্থি থাকে। এটি গঠনগত দিক থেকে টনসিলের মতো। এডিনয়েড বাইরে থেকে দেখা যায় না। কারণ আমাদের তালুর ওপরে এডিনয়েড থাকে। কাজেই এটা খালি চোখে দেখার কোনো উপায় নেই। এডিনয়েড দেখতে হলে এক্স-রে করতে হবে বা বিশেষ ধরনের অ্যান্ড্রোস্কোপ আছে, সেগুলো দিয়ে দেখা যেতে পারে।

শিশুর ঘন ঘন ঠান্ডা লাগার কারণে নাকের পেছনে এডিনয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে যায়। যার কারণে নাকের মাংস বাড়ে।

ঠান্ডার কারণে বাচ্চাদের আরও যেসব রোগ হয়

ঘন ঘন ঊর্ধ্ব শ্বাসনালির সংক্রমণ, সর্দি-কাশি-নাক বন্ধ, প্রায়ই অ্যালার্জিজনিত নাকের প্রদাহ বা অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, ক্রনিক টনসিলের ইনফেকশন, নিউমোনিয়া, অ্যাজমা ও ফুসফুসে সংক্রমণ হতে পারে।

এডিনয়েড গ্রন্থি বড় হলে যেসব সমস্যা হয়

– শিশু মুখ হাঁ করে ঘুমায়। রাতে ঘুমের মধ্যে শব্দ হয় বা নাক ডাকে। এ সমস্যা বেশি মাত্রায় হলে ঘুমের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে আসতে পারে। যাকে চকিং বলে। ঘুমের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য দম বন্ধ থাকতে পারে। যাকে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ এপনিয়া বলে।

– বাচ্চা ঘন ঘন সর্দি-কাশিতে ভোগে। একবার সর্দি-কাশি হলে তা সহজে সারতে চায় না।

– সমস্যা গলার পেছন থেকে ইউস্টেশিয়ান টিউবের মাধ্যমে কানে চলে যায়। ফলে ঘন ঘন কানে ব্যথা, কানে ইনফেকশন, কানের পর্দা ফেটে যাওয়া, কানের ভেতর পানি জমা ও কানে কম শোনা বা গ্লুইয়ার সমস্যা হতে পারে।

– এডিনয়েডের কারণে ঘন ঘন গলার ইনফেকশন, খুসখুসে কাশি, গলার স্বর বসে যাওয়া হতে পারে।

– শরীরের ভেতর অক্সিজেনের স্বল্পতার জন্য ঘুম ঘুম ভাব, পড়ালেখা ও স্কুলে অমনোযোগী হওয়া, বুদ্ধিমত্তা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা হয়। রাতে বিছানায় প্রস্রাবও করতে পারে।

কী করবেন

বাচ্চাদের এই সমস্যার ক্ষেত্রে অবশ্যই নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এমন হলে বয়সভেদে অ্যান্টি হিস্টামিন, মন্টেলুকাস্ট, নাকের স্প্রে বা ড্রপ এবং প্রয়োজনবোধে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে মেডিকেল চিকিৎসা করা হয়। সঙ্গে কানে শোনার পরীক্ষাও করে নিতে হয়। অনেক সময় শিশুর বয়স ১২-১৪ বছর হলেও এডিনয়েড স্বাভাবিক হয় না। ওষুধের মাধ্যমে নিরাময় না হলে শিশুর কষ্ট দীর্ঘতর হলে বিভিন্ন পরীক্ষার পর সম্পূর্ণ অজ্ঞান করে ছোট অপারেশনের মাধ্যমে এডিনয়েড ফেলে দিতে হয়।

[নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ, সিওমেক হাসপাতাল]


এই ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর