রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন

কমলগঞ্জে পাকা ধানে বুনো শুকরের আক্রমন: রাত জেগে পাহারা

সিলেটের বার্তা ডেস্ক : / ২৫ বার পঠিত
আপডেট : রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন
বুনো শুকরের আক্রমন থেকে ফসল বাঁচাতে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন এক কৃষক। ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বুনো শুকরের হানায় নষ্ট হচ্ছে ৬টি গ্রামের কয়েক হাজার একর জমির আমন ও সবজি ক্ষেত। এক মাস ধরে লাউয়াছড়ার পাশ্ববর্তী এলাকায় ফসলি জমিতে তান্ডব চালাচ্ছে বুনো শুকর।

পাকা ধান ঘরে তোলার সময়ে শুকরের তান্ডবের কারনে ফসল বিনষ্টের আশংকায় রয়েছেন কৃষকেরা। তাই বুনো শুকরের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় স্থাণীয় কৃষকরা পালাক্রমে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।

উপজেলার কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কৃষকরা জানান, লংগুরপার, দক্ষিন বালিগাঁও, সরইবাড়ি, বাঘমারা, ভেড়াছড়া, ছাতকছড়া ফসলি জমিতে লাউয়াছড়া বনের বুনো শুকর প্রায় প্রতি রাতে দলবদ্ধ ভাবে হানা দেয়।

তাদের হানায় পাকা আমনধান ও শীতকালীন সবজি নষ্ট করে দিচ্ছে। ধান,আলু, মূলা ও কলাগাছ রক্ষা পাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই কৃষকরা নিজেদের পাকা ফসল রক্ষার্থে মাঠে বাঁশ দিয়ে মাচাং তৈরী করে রাতে পাহারার ব্যবস্থা করেছেন।

শুকরদের তাড়ানোর জন্য সঙ্গে রেখেছেন প্লাষ্টিক ও টিনের তৈরী ড্রাম। কিছুক্ষন পর পর ওই প্লাষ্টিক ও টিনের ড্রামে কৃষকরা শব্দ করে চিৎকার দেন। যাতে করে শুকরগুলো চলে যায়।

কৃষক মুরাজ মিয়া, দুলাল মিয়াও জানান ,ফসল রক্ষার জন্য দিনে কাজ করে ও রাত জেগে পাহারা দিতে হচ্ছে। কষ্ট হলেও ফসল রক্ষার জন্য তা করতে বাধ্য হচ্ছেন।

ধান কেটে ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত চলবে কৃষকদের রাত জেগে পালাক্রমে পাহারার। যদিও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি অবগত হলেও বুনো শুকরের আক্রমন হতে রক্ষায় কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি বলে তারা দাবী করেছেন।

পরিবেশবাদী সংগঠন জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটি কমলগঞ্জ শাখার সম্পাদক আহাদ মিয়া বলেন, বন উজার ও ভুমি বেদখল হওয়ায় বন্য প্রানীরা লোকালয়ে এসে হানা দিচ্ছে কৃষকদের ফসলে। বন উজার বন্ধ করার দাবী জানান।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শ্রীমঙ্গল রেঞ্জ র্কমর্কতা মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, বন্যপ্রাণীর নির্দিষ্ট কোন এলাকা নেই। বন্যপ্রাণীরা খাবারের জন্য লোকালয়ে হানা দিচ্ছে।

বুনো শুকর ধান খেতে পছন্দ করে মূলত পাকাধান খাওয়ার জন্য কৃষকদের মাঠে হানা দিচ্ছে। তিনি আরো জানান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বুনো শুকরের বংশবিস্তার বেড়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জনি খান বলেন, আমাদেরকে কেউ বিষয়টি জানাননি।এখন জেনেছি, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সাবস্ক্রাইব করুন বার্তা ইউটিউব চ্যানেল
আমরা নিজস্ব সংবাদ তৈরীর পাশাপাশি জাতীয়/আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে সংবাদ সংগ্রহ করে সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোনো আপত্তি থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা গেল।

এই ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর