রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন

উন্নয়ন কাজে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে

সম্পাদকীয় ডেস্ক: / ১৩ বার পঠিত
আপডেট : রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন

করোনার আঘাত কাটিয়ে উঠছে দেশ। বর্তমানে প্রায় সব ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে উন্নয়ন কাজে গতি আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকের অনির্ধারিত আলোচনায় তিনি এ নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

 

প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, করোনা সংক্রমণের দুই বছর হয়ে গেছে, সবাইকে আরেকটু জোরেশোরে কাজ করে আমাদের ঘাটতিগুলো পূরণ করতে হবে। দেশের উন্নয়নের গতি স্বাভাবিক সময়ের জায়গায় নেওয়ার মতো কাজ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরাও মনে করি, দেশকে করোনার অভিঘাত থেকে দ্রুত উত্তরণে প্রত্যেকেরই উচিত যার যার কাজে আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হওয়া।

 

বিশ্বের অধিকাংশ দেশের মতো আমাদের দেশের অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের আঘাত হেনেছিল করোনা মহামারি। দুই দফা ‘লকডাউনে’র কারণে স্থবির হয়ে পড়েছিল প্রায় সব ধরনের কর্মকাণ্ড। উন্নয়ন কার্যক্রমও এর বাইরে ছিল না। লকডাউনের পর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে গতি ফিরে আসছে ধীরে ধীরে। তবে জানা গেছে, করোনার ধাক্কা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি অনেক প্রকল্প। আমরা আশা করব, সব উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা তাদের কাজে গতি আনতে সচেষ্ট হবেন। তারা নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে দৃষ্টি দেবেন। স্বাভাবিক সময়েই আমরা দেখেছি, অনেক প্রকল্পে একাধিকবার মেয়াদ বাড়ানো ও বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে। এতে প্রকল্পের ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। বিলম্ব হয় প্রকল্প বাস্তবায়নে। উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে এ প্রবণতার অবসান হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে হবে সংশ্লিষ্টদের।

 

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ইতঃপূর্বে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেশকিছু বাধা চিহ্নিত করেছিল। এগুলো হলো-সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা, জমি অধিগ্রহণে জটিলতা, অর্থছাড়ে বিলম্ব, দরপত্র মূল্যায়নে দীর্ঘসূত্রতা, সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্প গ্রহণ, দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনবলের অভাব, ঠিকাদারদের পেশাদারিত্বের অভাব, ভৌত নির্মাণকাজে ধীরগতি, প্রকল্প প্রস্তাব তৈরিতে দ্রব্যের মান ও মূল্য নির্ধারণে অদূরদর্শিতা ইত্যাদি।

 

এছাড়া উন্নয়ন সহযোগীদের গাইডলাইন অনুসরণ করতে না পারা এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলা-অনিয়মের মতো বিষয় তো আছেই। এসব কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যেমন সম্ভব হয় না, তেমনি প্রকল্পের ব্যয়ও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। অথচ কোনো প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা গেলে অহেতুক ব্যয় যেমন হ্রাস পায়, তেমনি হ্রাস পায় জনদুর্ভোগও। তাই এসব সমস্যা ও জটিলতা এড়াতে অনুমোদনের আগে প্রস্তাবিত প্রকল্পের যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার বিষয়টিও নিশ্চিত করা উচিত। করোনার আঘাত কাটিয়ে অর্থনীতিকে দ্রুত ঘুরে দাঁড় করানোর জন্য এসব দিকে আরও বেশি দৃষ্টি দেওয়া দরকার এ সময়ে। সব ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে গতি বাড়াতে নজরদারির উদ্যোগ নিতে হবে সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি)। বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন হলে দেশে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে এবং এর সুফল পাবে দেশবাসী।

 


সাবস্ক্রাইব করুন বার্তা ইউটিউব চ্যানেল
আমরা নিজস্ব সংবাদ তৈরীর পাশাপাশি জাতীয়/আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে সংবাদ সংগ্রহ করে সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোনো আপত্তি থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা গেল।

এই ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর