রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

সিলেটে ৫০’র নিচে মিলছে না তরকারি: শীতের সবজিতে স্বস্তি

সিলেটের বার্তা ডেস্ক : / ৯৩ বার পঠিত
আপডেট : রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন
ফাইল ফটো

সিলেটে ৫০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো প্রকারের তরকারি। যে তরকারির দামই জিজ্ঞেস করেন না কেন বিক্রেতার মুখ থেকে শুনা যায় ৫০’র উপরে দাম।

তবে শীতের সবজিতে বাজারে স্বস্তি ফিরছে এমনটা দাবি বিক্রেতাদের। শুক্রবার ছুটির দিনে সিলেট নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে-এমন চিত্রই দেখা গেছে।

শুধু শীতের সবজিই নয়, বাজারে কিছুটা কমেছে পেঁয়াজ, রসুনসহ মুরগির দামও। শুক্রবার নগরীর কাঁচাবাজারগুলো ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজিতে ১০ টাকা থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। বন্দরবাজারে কাঁচাবাজারে সিম বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিলো ১২০ টাকা। বেগুন ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, ফুলকপি প্রতি পিস ১০ টাকা কমে ৩০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, টমেটো ২০ টাকা কমে ১০০ টাকা, বরবটি ১০ টাকা কমে ৭০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ১১০ টাকা, চাল কুমড়া পিস ৪০ টাকা, প্রতি পিস লাউ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, কচুর লতি ৫০ টাকা, কাকরোল ৬০ টাকা ও মুলা ৫০ টাকা।

কাঁচামরিচ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা কমে ১২০ টাকায়। কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা, শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ১৫/২০ টাকায়।

এছাড়া আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি। বাজারে ভোজ্যতেলের প্রতি লিটার খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা। এছাড়াও বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তেলের লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়।

বাজারে অপরিবর্তিত আছে ডিমের দাম। লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। আর হাঁসের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকা।

সবজি বিক্রেতা কামাল উদ্দিন বলেন, ‘বাজারে সবজির আমদানি বেড়েছে। এ কারণে গত কয়েকদিনের তুলনায় শাক সবজির দাম অনেক কমেছে।

তবে প্রতিদিনই এই দাম বাড়ে আবার কমে। তাই আগামীকাল কেমন দাম হবে সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’

সবজি বাজারে স্বস্তি দেখা দিলেও চাল, ডাল, আটা, ময়দা, চিনি, তেলের দামে কোনও পরিবর্তন আসেনি। আকাশছোঁয়া দামে কেনাবেচা চলছে এসব পণ্যের।

এর সঙ্গে এ সপ্তাহে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ডিম ও মাছের অতিরিক্ত দাম। বয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা কমলেও বাজার এখনও চড়া। এখনও স্বাভাবিক দরে ফেরেনি পেঁয়াজের দাম। সবকিছু মিলিয়ে জীবন বাঁচানোর প্রয়োজনে নিত্যপণ্যের বাজারে সাধারণ মানুষ অসহায়।

বাজার ঘুরে জানা গেছে, সবচেয়ে নিম্নমানের মোটা চালের কেজি এখনও ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উন্নতমানের চিকন চাল মিনিকেট ও নাজিরশাইলের কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আটার কেজি ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬০ টাকা।

খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ১৫৩ টাকা। পামওয়েল ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা। সরিষার তেল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। ময়দা ৪০ টাকা কেজি। চিনির কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা।

ডিমের ডজন ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এ সপ্তাহে। দাম কিছুটা কমেছে বলা হলেও ১২০ টাকা কেজি দরের ব্রয়লার মুরগি এখনও বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৯০ টাকা। এ সপ্তাহে কমেছে পেঁয়াজের দাম-এমনটি বলা হলেও এখনও ফেরেনি ৪০ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে।

দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ এবং আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ ৪২ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে। রসুনের কেজি ৮০ থেকে ১৩০ টাকা, দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। চায়না আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা।

তবে দাম কমার এই চিত্রে সন্তুষ্ট নন ক্রেতারা। রিকাবীবাজারে কেনাকাটা করতে আসা শফিকুল ইসলাম মনে করেন, দুয়েকটি সবজির দাম কমলেও অধিকাংশ সবজির দাম এখনও অনেক বেশি।

তিনি বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম বেশি হলে মাসের খরচ পোষাতে হিমশিম খেতে হয়ে। অনেক কাটছাট করে চলতে হয়। শাক-সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে অনেকেরই সমস্যা হচ্ছে।’

আম্বরখা বাজার করতে আসা ক্রেতা ইব্রাহিম আলী বলেন, ‘সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। কিন্তু চাল ও পেঁয়াজের বাজার দরের অবস্থা খুবই খারাপ। এতো দাম দিয়ে চাল পেঁয়াজ কিনতে কিনতে পকেট খালি হচ্ছে।’

তিনি বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারের তাগিদ দেন। বলেন, ‘প্রশাসন নিয়মিত বাজারে অভিযান চালালে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রনে থাকতো।’

 


সাবস্ক্রাইব করুন বার্তা ইউটিউব চ্যানেল
আমরা নিজস্ব সংবাদ তৈরীর পাশাপাশি জাতীয়/আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে সংবাদ সংগ্রহ করে সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোনো আপত্তি থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা গেল।

এই ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর