রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে বিনোদন

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান : / ৪৪ বার পঠিত
আপডেট : রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন

ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার নাম। ইসলামের এ পূর্ণাঙ্গতা রাসূল (সা.)-এর মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে। ইসলামের প্রতিটি বিধানের পেছনে রয়েছে কিছু হিসাব ও লক্ষ্য। সে হিসেবে রাসূল (সা.)-এর প্রচলিত বিনোদনেরও সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য বিদ্যমান ছিল। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে চিন্তা-পেরেশানি দূরীভূত করে মনের মধ্যে প্রফুল্লতা সঞ্চারের উদ্দেশ্যে বিনোদন ব্যবস্থার আয়োজন করা হতো। সাথে সাথে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে ইসলাম ও সমাজসেবায় উপযোগী করে গড়ে তোলাও বিনোদনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল। ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অশ্বগুলোর দৌড় প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করলেন। (প্রতিযোগিতার স্থান ছিল) হাইফা থেকে ছানিয়্যাতুল বিদা পর্যন্ত। অন্য দিকে, যে ঘোড়াগুলো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয়, সেগুলোর দৌড় প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করলেন ছানিয়্যাতুল বিদা থেকে বনু যুরাইকের মসজিদ পর্যন্ত। ইবনে ওমর (রা.)ও সে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। রাসূল (সা.)-এর যুগে বিনোদনের একটি বড় লক্ষ্য ছিল, যেন তাঁর ও সাহাবায়ে কেরামের মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসার বন্ধন দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হয়।

সালামা ইবনে আকওয়া (রা.) থেকে বর্ণিত ঃ তিনি বলেন: একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) আসলাম গোত্রের একদল সাহাবীর পাশ দিয়ে গেলেন, যারা তীরন্দাজি করছিল, রাসূল (সা.) তাঁদের বললেন, হে ইসমাইলের বংশধর, তোমরা তীরন্দাজি করো, কেননা তোমাদের পিতা ছিলেন তীরন্দাজ। তোমরা তীর নিক্ষেপ করো, আমি অমুক গোত্রের সাথে আছি। রাসূল (সা.)-এর কথা বলার পর তীর নিক্ষেপ প্রতিযোগিতায়রত একদল লোক তীরন্দাজি থেকে বিরত থাকলো। অতঃপর রাসূল (সা.) তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, কী হলো, তোমরা তীরন্দাজি করছো না কেন? তাঁরা বললেন, আমরা কীভাবে তীরন্দাজি করবো, আপনি যে তাদের সাথে? তখন রাসূল (সা.) বললেন, তোমরা তীর নিক্ষেপ করো, আমি তোমাদের প্রত্যেকের সাথে আছি। উপর্যুক্ত হাদীস থেকে বোঝা যায়, রাসূল (সা.) স্বীয় সাহাবায়ে কেরামের সাথে এভাবে মিশতেন, যাতে তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্ক মজবুত হয় এবং রাসূল (সা.)-এর সাথে তাঁদের প্রীতি ও ভালোবাসা সৃষ্টি হয়।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কিছু বিনোদনকর্ম এমন ছিল, যাতে পরিবার-পরিজনকে আনন্দ দান ও তাঁদের প্রফুল্ল করা হতো। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি ঘটনা এ বিষয়ের উজ্জ্বল প্রমাণ। তিনি বলেন, আমরা একবার রাসূল (সা.)-এর সাথে সফরে ছিলাম। আমরা এক জায়গায় যাত্রাবিরতি করলাম, রাসূল (সা.) আমাকে বললেন, আস! আমি তোমার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা দিই। আয়েশা (রা.) বলেন, সেই প্রতিযোগিতায় রাসূল (সা.)-কে পিছনে ফেলে আমি বিজয়ী হই। এ ঘটনার পর অন্য এক সফরে আমি রাসূল (সা.)-এর সাথে কোনো এক জায়গায় যাত্রাবিরতি করলাম। রাসূল (সা.) আমাকে বললেন, আস! তোমার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা দিই। আয়েশা (রা.) বলেন, এবারের প্রতিযোগিতায় রাসূল (সা.) আমার চেয়ে অগ্রগামী হয়ে বিজয়ী হলেন। অতঃপর রাসূল (সা.) আমার স্বন্ধে হাত রেখে বললেন, এ বিজয় ঐ (আগেরবার) তোমার বিজয়ী হওয়ার বদলা।
রাসূল (সা.) পরিবার-পরিজনকে আনন্দ দানের জন্যে মাঝে মধ্যে দৌড় প্রতিযোগিতাসহ নানা আনন্দদায়ক বিষয়ের অবতারণা করতেন, যা ছিল শরিয়তের সীমারেখার মধ্যেই। উক্ববা ইবনে আমির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, প্রত্যেক খেলাই বাজে কাজ (অর্থহীন), তবে কেউ তার তীর নিয়ে তীরন্দাজি শেখে, তার ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দেয় এবং নিজের স্ত্রীর সাথে খেলাধুলা ও ফূর্তি করে (তাহলে দোষ নেই)। কেননা এ কাজগুলো হক বা সুসংগত কাজ। মানুষকে শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা।
বিনোদনমূলক কর্মকান্ড চর্চার মাধ্যমে মানুষের শারীরিক ফিটনেস বজায় রাখা যায়। মানুষের দৈহিক সক্ষমতা বহাল রাখতে ইসলাম মানুষকে উৎসাহিত করেছে। কারণ শারীরিক সবলতা ও সুস্থতা ব্যক্তির সামগ্রিক দায় দায়িত্ব পালনে খুবই জরুরি। এ প্রসঙ্গে রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, দুর্বল মুমিনের চেয়ে শক্তিশালী মুমিন অনেক উত্তম ও আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়, সবার মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে।

রাসূল (সা.)-এর যুগে প্রচলিত বিনোদনের আরেকটি লক্ষ্য ছিল মানুষকে এ কথা বোঝানো যে, ইসলামের বিধিবিধান উদারনৈতিক ও প্রশস্ত। এতে কোনো সংকীর্ণতা বা সীমালঙ্ঘন নেই। ইসলামে রয়েছে মানুষের প্রতিভা বিকাশের সুন্দর সুযোগ। এর উৎকৃষ্ট প্রমাণ হলো- রাসূল (সা.) তার স্ত্রী আয়েশা (রা.)-এর সাথে খেলাধূলা, তাঁর কন্যা ও মহিলা সাহাবীগণের খেলার সুযোগ করে দেয়া ইত্যাদি।

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) বলেন, আমি নবী (সা.)-এর উপস্থিতিতে ছোট বালিকাদের সাথে পুতুল সাজিয়ে খেলতাম, আমার কিছু সঙ্গিনী ছিলো, যারা আমার সাথে খেলতো। যখন রাসূল (সা.) ঘরে প্রবেশ করতেন, তখন তারা দৌড়ে পালাতো। রাসূল (সা.) তাদের ডেকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন। তখন তারা আমার সাথে খেলতো। অপর বর্ণনায় এসেছে, হাবশীরা যখন মসজিদে নববীতে তীরন্দাজি করছিল, তখন রাসূল (সা.) তাদের উদ্দেশ্য করে বললেনÑ যাতে করে ইহুদিরা জানতে পারে যে, আমাদের দ্বীনে প্রশস্ততা আছে আর আমি প্রেরিত হয়েছি তাওহীদি চিন্তা-চেতনাপুষ্ট সরল সহজ উদার দ্বীন সহকারে।

কৌতুক করা মানে আমোদ ও মজা করা, আনন্দ উপভোগ করা। শরিয়তের সীমারেখা অনুসরণ করে কৌতুক করা এবং রসাত্মক কথা বলে মজা করা ইসলামে দূষণীয় নয়। এক্ষেত্রে শরিয়তের নির্দেশনা হলো- কৌতুক সত্যনির্ভর হতে হবে এবং এর মাধ্যমে কারো মানসম্মান হরণ হবে না কিংবা কারো প্রতি বিদ্রুপ প্রকাশ পাবে না। কাজেই বিনোদনের নামে এমন কোনো কৌতুকের আশ্রয় নেয়া যাবে না, যাতে মিথ্যার সংমিশ্রণ রয়েছে।
হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, একবার সাহাবীগণ রাসূল (সা.)-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের সাথে তো রসাত্মক কথাবার্তা বলেছেন! তখন তিনি বললেন, আমি তো সত্য কথাই বলছি। রাসূলুল্লাহ (সা.) এ উক্তির মাধ্যমে সাহাবায়ে কেরাম (সা.)-এর মধ্যে প্রচলিত একটি ভুল ধারণার অপনোদন করেছেন। সাহাবীগণ মনে করতেন, হাসি আনন্দ প্রকাশ কিংবা বৈধ উপায়ে মজা করা রাসূল (সা.)-এর জন্যে মোটেও শোভনীয় নয়। তাই তাঁরা রাসূল (সা.)-কে কৌতুক করতে দেখে তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি দেখি আমাদের সাথে কৌতুকপূর্ণ কথাবার্তা বলছেন! রাসূল (সা.) তাঁদের ভুল ধারণা দূরীকরণার্থে বললেন, আমি তো সত্য কথা ছাড়া অন্য কোনো কথা বলি না।

প্রতিদিন কিছু না কিছু ব্যায়াম বা শরীরচর্চা স্বাস্থ্যের জন্যে ভালো। ব্যায়ামের মধ্যে হাঁটা, দৌড়ানো, সাইক্লিং সাঁতারকাটা ইত্যাদি রয়েছে। যারা নিয়মিত পানিতে সাঁতার কাটে, তাদের হার্টবিট ভালো থাকে। সাঁতারকাটা চিত্তবিনোদনের একটি মাধ্যম। এতে শরীরের ব্যায়াম যেমন হয়, তেমনি আনন্দ উপভোগও করা যায়। সাঁতার কাটলে শরীর পুষ্ট হয়। ইসলামের দৃষ্টিতে সাঁতার কাটা মুবাহ অর্থাৎ বৈধ কাজ। ক্ষেত্রবিশেষে এটি মানুষের জন্যে জরুরি হয়ে পড়ে। সাইয়িদুনা জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, প্রত্যেক বিষয়ই যাতে আল্লাহর জিকর (স্মরণ) নেই, তা খেলতামাশা হিসেবে গণ্য হবে, তবে চারটি কাজ এর ব্যতিক্রম। তা হলো দুটি লক্ষ্য পানের মাঝে ব্যক্তির হাঁটা, ব্যক্তির ঘোড়া লালন-পালন ও প্রশিক্ষণ দান, স্বীয় স্ত্রীর সাথে আমোদ-প্রমোদ করা ও সাঁতারকাটা শিক্ষা দেয়া। সাইয়িদুনা ওমর (রা.) আবু উবাইদা ইবনুল জাররাজ (রা.)-এর প্রতি লিখিত এক চিঠিতে বাচ্চাদের সাঁতারকাটা শিক্ষাদানের নির্দেশ দান করেন।

ঘোড়ায় আরোহণ ও ঘোড়াদৌড় প্রতিযোগিতা আনন্দ আহ্লাদ ও চিত্তবিনোদনের একটি উপায়। এর মাধ্যমে ব্যক্তির শারীরিক ব্যায়াম হয়। ইসলাম এ ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করেছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, নবী করীম (সা.) ঘোড়াদৌড় প্রতিযোগিতা করিয়াছেন। যেটি জিতেছে, সেটিকে পুরস্কারও দিয়েছেন। সাইয়িদুনা ওমর আঞ্চলিক প্রশাসকদের লক্ষ করে বলেন, তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাঁতারকাটা ও তীরন্দাজি শিক্ষা দাও। ঘোড়ার পিঠে লম্প দিয়ে উঠে শক্ত হয়ে বসতেও তাদের অভ্যস্ত করো। ঘোড়ার মতো উটের পৃষ্ঠেও মানুষ আরোহণ করে বিনোদন উপভোগ করতে পারে। ইসলামে উটের ওপর আরোহণ এবং এর প্রতিযোগিতা দেওয়া বৈধ। রাসূলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর সাহাবায়ে কেরাম (রা.) উটের ওপর আরোহণ করেছেন।

মল্লযুদ্ধ বা কুস্তি এবং এর প্রতিযোগিতা বিনোদনের একটি উপায়। এতে রয়েছে সামরিক প্রশিক্ষণ ও অনুশীলন, শারীরিক যোগ্যতা অর্জন, ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার দীক্ষা। এক্ষেত্রে শরিয়ত নির্ধারিত নিয়মকানুন মেনে চলে একে উপভোগ্য করে তোলা ইসলামে অনুমোদিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেও প্রসিদ্ধ কুস্তিগির রুকানার সাথে কুস্তি করেছিলেন এবং তাকে ধরাশায়ী করেছিলেন। তবে বর্তমানকালে প্রচলিত কুস্তি, যা বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সারাক্ষণ প্রদর্শিত হচ্ছে, তা ইসলামে বৈধ নয়। কারণ এতে শরিয়তের বিধান লঙ্ঘিত হচ্ছে অবলীলায়। যেমন এতে সতর অনাবৃত রেখে খেলা হয়, অন্যকে প্রচন্ড আঘাত করা হয়, এতে কোনো কোনো সময় অঙ্গহানি ঘটে, অনেক সময় অন্ধত্ব বরণ করতে হয়, কখনো তা মৃত্যুরও কারণ হয়ে থাকে।

ভ্রমণের মাধ্যমে জীবনের একগুঁয়েমি ভাব দূর করে মানুষ আনন্দ উপভোগ করতে পারে। সাথে সাথে এতে মানুষের জ্ঞানের পরিধি সমৃদ্ধ হয়, মহান আল্লাহর নয়নাভিরাম অপরূপ সৃষ্টিরাজি অবলোকন করে তাঁর অপার শক্তি ও মহানত্ব অনুভব করতে পারে। এভাবে মানুষ মহান রবের শুকরিয়া আদায়ে সচেষ্ট হয়। দেশ ভ্রমণ করার ফলে মানুষের মনে ভেসে ওঠে যুগে যুগে অভিশপ্ত জাতি গোষ্ঠীর ভয়াবহ পরিণতির নিদর্শনাবলি। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তারা কি এ উদ্দেশ্যে দেশ ভ্রমণ করেনি, যাতে তারা সমঝদার হৃদয় ও শ্রবণশক্তি সম্পন্ন কর্ণের অধিকারী হতে পারে। বস্তুত চক্ষু তো অন্ধ হয় না, কিন্তু অবস্থিত অন্তরই অন্ধ হয়। চিত্তবিনোদনের একটি অন্যতম উপায় হলো তীরন্দাজি। ঐতিহাসিকভাবে তীরন্দাজি মূলত পশু শিকার ও যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে উদ্ভাবন করা হয়। ইসলামে তীর নিক্ষেপণ শরিয়তসম্মত একটি খেলা ও প্রশিক্ষণমূলক বিষয়। এটা ইসলামের দৃষ্টিতে কেবল খেলা ও হাস্য কৌতুকের ব্যাপারই নয়; বরং তা হলো শক্তি-সামর্থ্য অর্জন, প্রকাশ ও প্রমাণের অন্যতম মাধ্যমও। রাসূল (সা.) যখন সাহাবায়ে কেরামকে তীর নিক্ষেপণে মশগুল দেখতেন, তখন তিনি সর্বতোভাবে তাঁদের উৎসাহিত করতেন। রাসূল (সা.) বলতেন, তোমরা তীর নিক্ষেপ করো, আমি তোমাদের সকলেরই সাথে আছি।

সৌজন্যে: সিলেটের ডাক


সাবস্ক্রাইব করুন বার্তা ইউটিউব চ্যানেল
আমরা নিজস্ব সংবাদ তৈরীর পাশাপাশি জাতীয়/আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে সংবাদ সংগ্রহ করে সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোনো আপত্তি থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা গেল।

এই ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর