রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১২:১৯ অপরাহ্ন

শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় হযরত মুহাম্মদ সা. এর আদর্শের বিকল্প নেই: সিলেটে জাতীয় সিরাত কনফারেন্সে বক্তারা

সিলেটের বার্তা ডেস্ক : / ১৯২ বার পঠিত
আপডেট : রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১২:১৯ অপরাহ্ন
সিলেটে জাতীয় সিরাত কনফারেন্স

হযরত মুহাম্মদ সা. সমগ্র সৃষ্টির জন্য মহান আল্লাহর রহমত। তার কালজয়ী আদর্শ মানবতার শান্তি মুক্তি নিরাপত্তা ও সম্প্রীতির গ্যারান্টি দেয়। তিনি কেবল মুসলমানদের নবী নন। মহান আল্লাহ যেমন রাব্বুল আলামীন, কুরআন মজীদ তেমনি সমগ্র পৃথিবীর মানুষের জন্য হেদায়ত গ্রন্থ। একই ভাবে হযরত মুহাম্মদ সা. সমগ্র সৃষ্ঠির জন্য আল্লাহর রহমত।

শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় হযতর মুহাম্মদ সা. এর আদর্শের কোনো বিকল্প নেই। আজকের নীতিনৈতিকতাহীন অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমাদের সকলকে হযরত মুহাম্মদ সা. এর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। সিলেটের জাতীয় সীরাত কনফারেন্সে মূখ্য আলোচকের বক্তব্য দিতে গিয়ে লেখক গবেষক ও চিন্তক মাও. উবায়দুর রহমান খান নদবী উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

কনফারেন্সের সমন্বয়ক ইউরোপে ইসলামের ভাষ্যকার মুফতি আবদুল মুনতাকিম বলেন, ইসলাম পৃথিবীর একমাত্র পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। রাসূল সা. এর জীবন চরিত ইসলামের জীবন্ত নমূনা। সুতরাং আমাদেরকে মুকাম্মাল দ্বীন ও মুসতাকিল তাহযীব পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ, লালন, প্রচার ও বাস্তবায়নে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

শান্তি, স্বস্তি, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষার শ্লোগান নিয়ে আয়োজিত জাতীয় সিরাত কনফারেন্স সিলেট-২০২১ এ সিলেটের ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা তৈরী করেছে।

উদ্যোক্তাদের ধারণাকে পিছনে ফেলে হাজার হাজার মানুষ কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেছেন। সুপরিসর আমান উল্লাহ কনভেনশন সেন্টার কনায় কনায় পূর্ণ হয়ে বাহিরের ক্যাম্পাসে উপছে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ১টার পর থেকেই মানুষের ¯্রােত সেন্টারের দিকে ছুটতে দেখা গেছে। বেলা আড়াইটায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়।

তিন পর্বে চলা এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, শায়খুল হাদীস আল্লামা মুকাদ্দাস আলী এবং শায়খুল হাদীস আল্লামা আবদুল মুছাব্বির।

উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক মুফতি আবদুল মুতাকিম। এর আগে কুরআন মাজীদ থেকে তিলাওয়াত করেন হাফিজ মাসউদ।

সিরাত কনফারেন্সে বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-জামিয়া মাদানিয়া আঙ্গুরা মুহাম্মদপুরের মহাপরিচালক মুফাক্কিরে ইসলাম শায়খ যিয়া উদ্দিন, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, দৈনিক উত্তরপূর্ব পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সকল যুগে সকল কালে সকল ভৌগলিক সীমানার জনগণের জন্য সকল ভাষাভাষী মানুষের জন্য হযরত মুহাম্মদ সা. সর্বোত্তম আদর্শ। তার আদর্শের মাঝে মানুষের ইহপরকালীন মুক্তির দিশা রয়েছে। তিনি পৃথিবীতে শান্তি মুক্তি, নিরাপত্তা, স্বস্তি ও সম্প্রীতির শিক্ষা দিয়ে গেছেন। হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি, সাম্প্রদায়িকতা, জুলুম নির্যাতন সহ সকল প্রকার অন্যায়, অনাচারের মূলোৎপাটন করেছিলেন। তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজও তার রেখে যাওয়া আদর্শ পৃথিবীর মানুষের মুক্তির জন্য অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, মাওলানা ইয়াহয়া মাহমুদ ঢাকা, প্রফেসর ড. শাহ আলম শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মাওলানা শাহিনুর পাশা চৌধুরী, মাওলানা তাহমীদুল মাওলা ঢাকা, মাওলানা আবু সালেহ কুতবুল আলম ভাইস প্রিন্সিপাল দারুস সুন্নাহ কামিল মাদরাসা সোবহানীঘাট সিলেট, শায়খ বদরুদ্দীন আল মাদানী, মাও. কবি মুসা আল হাফিজ, অধ্যাপক আব্দুস সবূর মহাসচিব আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম, মাওলানা আবদাল হোসেন খান প্রিন্সিপাল বানিয়াচং আলিয়া মাদরসা , মাওলানা তাফহীমুল হক হবিগঞ্জি, শায়খ সাঈদ বিন নুরুজ্জামান আল মাদানী সিলেট, মাও হারুনুর রশীদ ইমাম সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা মতিউর রহমান ইমাম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাফিজ মাওলানা হুজায়ফা চৌধুরী ইমাম দরগাহে হযরত শাহ জালাল জামে মসজিদ, মাও. মাহবুব শিরাজী মাওলানা মাহফুজ আহমদ ইংল্যান্ড, মুফতি জাবের আল হুদা চৌধুরী সভাপতি হবিগঞ্জ যুব উলামা পরিষদ, মাওলানা এহসান উদ্দীন সিলেট, মাও. মুফতি জমিরুদ্দীন, মাও. আব্দুল কাদির মাসুম, মাও. হামিদুর রহমান আল মাদানী প্রমূখ।

সমগ্র প্রোগ্রাম টি উপস্থাপন করেন মাও. হাফিয আবদুল মুকতাদির, মাও. আহমদ শামছুদ্দিন এবং মাও. মাসরুর আহমদ।

কনফারেন্স শেষে “সিলেট ঘোষনা” একটি ঘোষণা পাঠ করেন মাও. শাহ নজরুল ইসলাম।

ঘোষণাপত্রটি নিম্নরূপ;
১. আজকের কনফারেন্স মানবতার ইহকালীন শান্তি ও মুক্তির জন্য সকলকে বিশ্ব শান্তির অগ্রদূত হযরত মুহাম্মদ সা. এর আদর্শ অনুকরণের আহবান জানাচ্ছে।
২. পৃথিবীর নিরাময় ও পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখার জন্য হযরত মুহাম্মদ সা. এর জীবনাদর্শকে নিজের যাপিত জীবনের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা।
৩. শিক্ষার সকল পর্যয়ে মহানবীর জীবনী অন্তর্ভুক্ত করুন।
৪. মিশ্র সমাজ ব্যবস্থায় শান্তি স্বস্তি নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষায় হযরত মুহাম্মদ সা. এর নীতি-আদর্শ বাস্তবায়ন করুন।
৫. একটি জ্ঞান সমৃদ্ধ আলোকিত জীবন গঠনে প্রত্যেক ঘর, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, সংগঠনে পাঠাগার গড়ে তুলুন এবং সেখানে সীরাত কর্নার প্রতিষ্ঠা করুন।
৬. নিয়মিত কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত, বুঝে বুঝে কুরআন মাজীদ পড়া, হাদীস পাঠ এবং সীরাত পাঠের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৭. হযরত মুহাম্মদ সা. এর প্রতি ভালবাসার পারদ সর্বত্র ছড়িয়ে দিন এবং তার আর্দশে ব্যক্তি, সমাজ ও দেশকে রাঙিয়ে তুলুন।
৮. সকল প্রকার সন্ত্রাস, চরমপন্থা, উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা পরিহার করুন। কোনো প্রকার গুজবে কান দিবেন না। উত্তেজনা ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন।
৯. মুকাম্মাল দ্বীন ও মুসতাকিল তাহযীব বাস্তবায়নে ফিরকা ও মাসলাকের উর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ হোন।
১০. উম্মাহ-চেতনা লালন করুন। উম্মাহর ঐক্য বিনষ্ট হয় এমন বক্তব্য, আচরণ ও লেখালেখি থেকে বিরত থাকুন।
১১. আসুন! শায়খে বর্ণভী রহ. এর সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে ঘোষণা করি:
“মতভেদ আর দলাদলী * পায়ের নীচে দেব ফেলী
মধুর তানে তান ধরিবো * ইল্লাল্লাহর আযান
পাগল হয়ে নামবো মোরা * করবো পাগল বিশ্ব সারা
জগতটাকে জানিয়ে দেবো * আমরা মুসলমান”

 

 


সাবস্ক্রাইব করুন বার্তা ইউটিউব চ্যানেল
আমরা নিজস্ব সংবাদ তৈরীর পাশাপাশি জাতীয়/আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে সংবাদ সংগ্রহ করে সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোনো আপত্তি থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা গেল।

এই ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর