রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১১:২৬ পূর্বাহ্ন

প্রাণ ফিরে পেল শাবি: উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

নাজমুল হুদা, শাবি: / ৭২ বার পঠিত
আপডেট : রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১১:২৬ পূর্বাহ্ন

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর হলে ফিরতে শুরু করেছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ব্যাগ, লাগেজ ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে হলের সামনে অনেকদিন পর দেখা গেছে শিক্ষার্থীর সমাগম।

এ যেন চিরচেনা এক চিত্র, যা দীর্ঘ ১৯মাস পর গতকাল সকাল ১০টা থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর সামনে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদেরকে হলে হলে বরণ করে নিতে ব্যস্ততা ছিল হলগুলোতে।

সরেজমিতে দেখা গেছে, বিশ^বিদ্যালয় কিংবা নিজ নিজ হলের লোগো সংবলিত মাস্ক, ফুল, কলম, হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে বরণ করে নেওয়া হল কর্তৃপক্ষ।

শরীরের তাপমাত্রা মাপার পাশাপাশি অন্তত এক ডোজ টিকার প্রমাণপত্র, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ আইডি কার্ড ও আবাসিক হলের রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেখিয়ে তবেই হলে উঠার অনুমতি পেয়েছে শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, গতকাল শুধু মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা হলে উঠার সুযোগ পেয়েছে। আজ স্নাতক ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হলে উঠার সুযোগ পাচ্ছে এবং ২৭ অক্টোবর ৩য় বর্ষ, ২৮ অক্টোবর ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে পারবেন ।

এদিকে সোমবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অনলাইন প্লার্টফর্ম জুমে প্রধান অতিথি হিসেবে ‘হলে প্রত্যাবর্তন’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

উদ্বোধনকালে উপাচার্য বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আমাদের আবাসিক হল খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় ক্যাম্পাসে আবারো মুখরিত হয়ে উঠবে।

স্বশরীরে আগামী নভেম্বরের শুরুতে ক্লাস শুরু হবে। তবে হলে উঠতে কিংবা ক্লাসে স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে হলে অন্তত একডোজ টিকা নিতে হবে। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে পারবে না কিংবা ক্লাসে উপস্থিত হতে পারবে না।

সকলের টিকা নিশ্চিতকরণে ক্যাম্পাসেই টিকার ব্যবস্থা করেছি। উপাচার্য আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে হলগুলো সংস্কার করা হয়েছে, যাতে হলে উঠে শিক্ষার্থীদের কোন ধরণের সমস্যায় পড়তে না হয়। দুইটা হলের কাজ চলছে, সামনে আরো নতুন নতুন হল হবে। শিক্ষার্থীদের হলে থাকতে হলে ছাত্রত্বের বৈধতা থাকতে হবে।

বৈধতা ছাড়া কোন শিক্ষার্থী হলে থাকতে পারবেন না। এসময় শিক্ষার্থীদেরকে ক্যাম্পাসে ফিরে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান উপাচার্য।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক প্রফেসর জহীর উদ্দিন আহমেদ, প্রক্টর ড. মো. আলমগীর কবীর, শাহপরাণ হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান খান, সৈয়দ মুজতবা আলী হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. আবু সাইদ আরফিন খান, প্রথম ছাত্রী হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. জায়েদা শারমিন, রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম।

এসময় অনলাইনে সকল আবাসিক হলের সহকারী প্রভোস্টবৃন্দ, আবাসিক শিক্ষার্থীবৃন্দ ও হলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় আবাসে (হলে) ফিরে আসায় প্রভোস্টরাও আনন্দিত। তাদের মধ্যেও ফিরে এসেছে চাঞ্চল্যতা। ফিরে এসেছে পুরনো কাজের গতি।

শাহপরাণ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান খান বলেন, শিক্ষার্থীরা আবার হলে ফিরেছে, এতে হল কর্তৃপক্ষ অনেক আনন্দিত। আশা করি সকলেই হলের নিয়মকানুন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম বলেন, অনেকদিন পর শিক্ষার্থীরা হলে ফিরছে। এতে আবারো মুখরিত হচ্ছে ক্যাম্পাস ও হলগুলো। ইতোমধ্যে আমরা হলের ডাইনিং ও কিচেন রুম নতুনভাবে সংস্কার করেছি। হলের সৌন্দর্য বর্ধনে চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। তাই শিক্ষার্থীরা তাদের আবাসস্থলে ফিরতে পারছে বলেই আমরা আনন্দিত।

স্মরণকালের সবচেয়ে দীর্ঘ বন্ধের পর অবশেষে ক্যাম্পাসে ফিরতে পারায় স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা। বন্ধুবান্ধব সকলকে একসাথে দেখতে পেয়ে হলের রুমে রুমে যেনো চলছে উৎসবের আমেজ। ‘বন্ধু তোকে কতদিন ধরে দেখিনা’ বলেই একে অন্যকে বুকে জড়িয়ে নিচ্ছে পর মূহুর্তেই।

শাহপরাণ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শাহ নেওয়াজ বলেন, দীর্ঘ ১৯ মাস পর আবার হলে উঠতে পারলাম। বিষয়টি আমাদের জন্য অবশ্যই আনন্দের। বন্ধুবান্ধব সকলকে কাছে পাচ্ছি। তাছাড়া আমরা যারা হলে উঠেছি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবো। হল কর্তৃপক্ষের মনোরম ব্যবস্থাপনায় আমরা মুগ্ধ। অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে আমাদেরকে বরণ করে নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।

প্রথম ছাত্রী হলের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান হয়েছে। আমিসহ বন্ধুবান্ধব যারা আছে সবার মধ্যেই প্রাণচাঞ্চল্যতা ফিরে এসেছে। হতাশার অবসান হয়েছে। মনে হচ্ছে পুরনো দিনগুলোর স্বাদ পাচ্ছি।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১৭ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে সারাদেশে একযোগে সরকারী সিদ্ধান্তের আলোকে বন্ধ হয়ে যায় শাবি ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলগুলো। দীর্ঘ ১৯ মাস পর আবারো ক্যাম্পাসে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বাসিত শিক্ষক, শিক্ষার্থীম কর্মকর্তা, কর্মচারীরা। যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে আবারো শাবি ক্যাম্পাস।


সাবস্ক্রাইব করুন বার্তা ইউটিউব চ্যানেল
আমরা নিজস্ব সংবাদ তৈরীর পাশাপাশি জাতীয়/আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে সংবাদ সংগ্রহ করে সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোনো আপত্তি থাকলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা গেল।

এই ক্যাটাগরীর আরও সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর