আজ বৃহস্পতিবার, ২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

‘গোয়াইনঘাটের কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না ছাত্রলীগকে’

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
‘গোয়াইনঘাটের কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না ছাত্রলীগকে’
শেয়ার করুন/Share it

ছাত্র সংগঠন শক্তিশালী না হলে যে কোনো দলের মুরব্বী সংগঠনের উপর একটা বিরূপ প্রভাব পড়ে থাকে। অনেক ধরণের দায়বদ্ধতা, দায়হীনতার ঠেলাঠেলি চলে।

ছাত্রসংগঠন ঘরের কোণে বসে থাকলে কি আর হয়। এমনটাই সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের মতো অবস্থা উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের।

দলের কোনো কর্মসূচীতে নেই তাদের উপস্থিতি। এরকমই চলছে সীমান্তবর্তী এলাকা গোয়াইনঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের কার্যক্রম।কোথাও তাদের পাওয়া যাচ্ছে না।

২০১৭ সালের ৩১ জুলাই শাহ্জাহান সিদ্দিক সাবুলকে সভাপতি ও আশফাক জামিল লায়েককে সাধারণ সম্পাদক করে গোয়াইনঘাটে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে বিশাল একটি অংশ। এ সময় উক্ত কমিটির পদ,পদবী থেকে ফেসবুক লাইভে এসে পদত্যাগও করেন বেশ কয়েকজন নেতা।

উক্ত কমিটি বাতিলের দাবীতে আন্দোলন এবং ঝাড়- মিছিল হয় গোয়াইনঘাট সদরে। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক লেখালেখি শুরু হয়। কমিটি গঠনের পর হইতে অদ্যাবধি সময় পর্যন্ত কমিটির নেতারা গোয়াইনঘাটে জাতীয় কোন দিবস কিংবা দলীয় কোন কর্মসূচীতে অংশ নিতে পারেননি।

বিবাদমান বিশাল গ্রুপের প্রতিরোধের মুখে গোয়াইনঘাটে উপজেলা ছাত্রলীগের কোন কার্যক্রম চোখে পড়েনি অদ্যাবদি। শাহ্জাহান সিদ্দিক সাবুল ও আশফাক জামিল লায়েকের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে বিবাদমান গ্রুপগুলো

এক হয়ে এ.কে.এম জাকারিয়াকে সভাপতি ও আব্দুল মনসুর ডালিমকে সাধারণ সম্পাদক করে গোয়াইনঘাট উপজেলা এবং আইনুল হককে সভাপতি ও গোলাম আজাদকে সাধারণ সম্পাদক করে তৃণমূল ছাত্রলীগের ব্যানারে গোয়াইনঘাটে উপজেলা এবং কলেজ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরই মধ্যে কেটে গেছে প্রায় ৩বছর। উপজেলায় ছাত্রলীগের কোন মিছিল, মিটিং কিংবা সভা, সমাবেশ না করলেও হঠাৎ করেই শাহ্জাহান সিদ্দিক সাবুল ও আশফাক জামিল লায়েক স্বাক্ষরিত ২নং পশ্চিম জাফলং, ৫নং পূর্ব আলীরগাঁও ও ৯নং ডৌবাড়ীসহ ৩টি ইউনিয়নের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এ ঘটনার সাথে সাথেই আবারও ক্ষোভ দেখা দেয় গোয়াইনঘাটে ছাত্রলীগের বিবাদমান গ্রুপ সমূহে। শিবির, ছাত্রদল বিপথগামী সদস্যদের অন্তর্ভূক্ত এবং কালো টাকার বিনিময়ে এসব কমিটি দেয়া হয়েছে অভিযোগ এনে তাৎক্ষনিক তা প্রতিহতের ডাক দেয়া হয় তৃণমূল ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে। টাকার বিনিময়ে কমিটি দেয়ায় তাদের দেয়া পদ পদবী থেকেও স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন বেশ কয়েক জন ছাত্রলীগ নেতা।

আরও পড়ুন:  একদিনে আরও ২২ মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৮৬

গোয়াইনঘাটের তৃণমূল উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এ.কে.এম জাকারিয়া এবং মূল কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সুফিয়ান আহমদ বলেন, সাবুল আর লায়েকের জন্যই গোয়াইনঘাটে ছাত্রলীগের ত্রাহী অবস্থা বিরাজ করছে। বিতর্কিত এই দু’নেতা একের পর এক অপকর্ম করে সংগঠনের গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজ করে যাচ্ছেন। সভাপতি পরিচয়ধারী নিজে বিবাহিত, ছেলের বাবা অথচ তিনি ঘরে বসে বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করছেন। সে সব কমিটিতে টাকার বিনিময়ে ছাত্র শিবির,ছাত্রদলসহ বিতর্কিতদের পদ পদবী দিচ্ছেন।

গোটা উপজেলায় ছাত্রলীগের রাজনৈতিক কর্মকান্ড বিনষ্টের জন্য এই দু’নেতা দায়ী। তৃণমূল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, ২০১৭ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে আসলেও সাবুল এবং লায়েক অদ্যাবধি পর্যন্ত গোয়াইনঘাটের রাজনীতি নিয়ে একটি মিছিলও করতে পারেননি। বিকাশ এবং সরাসরি ফতেহপুর বাজারে বসে বখরা নিয়ে সাবুল, লায়েক বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটি দিয়ে অবৈধ ফায়দা লুটছেন।

টাকার বিনিময়ে কমিটি বাণিজ্য এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নিষ্ক্রিয়তার ব্যাপারে কথা হলে,গোয়াইনঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ্জাহান সিদ্দিক সাবুল বলেন,বিভিন্ন ইউনিয়নে একই পদে একাধিক নেতা পদ দাবী করেন। যারা পদ পাননা তারা কমিটি থেকে পদত্যাগ করছেন। টাকার বিনিময়ে ইউনিয়ন কমিটি ঘোষণার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

গোয়াইনঘাটে দীর্ঘদিন থেকে ছাত্রলীগের বিবাদমান গ্রুপ সমূহের মধ্য বিরোধ তুঙ্গে থাকলেও উপজেলা আওয়ামীলীগ কিংবা জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বশীলরা অদ্যাবধি কোন পদক্ষেপ নেননি। এ কারণে শৃ*খলাভঙ্গসহ দলীয় এবং জাতীয় বিভিন্ন কর্মসূচীতে ছাত্রলীগের অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে।

সিলেটের বার্তা ডেস্ক


শেয়ার করুন/Share it
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০