আজ শনিবার, ১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বন্যায় বিপর্যস্ত জৈন্তাপুরের জনজীবন: চাল ও টাকা বরাদ্দ

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত জুন ২৮, ২০২০, ০৮:১৮ অপরাহ্ণ
বন্যায় বিপর্যস্ত জৈন্তাপুরের জনজীবন: চাল ও টাকা বরাদ্দ
শেয়ার করুন/Share it

সিলেটের বার্তা ডেস্ক:: বন্যায় বিপর্যস্ত সিলেটের জৈন্তাপুরের জনজীবন। পাহাড়ি ঢল আর ভারী বর্ষণের ফলে প্লাবিত উপজেলার নিম্নাঞ্চল। ইতোমধ্যে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

৩ দিন থেকে উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সারী ও বড়গাং নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শ্রীপুর, রাংপানি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্যার উপজেলার গ্রামীণ জনপদের বেশ কয়েকটি রাস্তাঘাটে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন বলেন, জৈন্তাপুর উপজেলায় বন্যাদুর্গত এলাকায় সরকারি ত্রাণ সহায়তা হিসাবে ২৬ মেট্রিকটন চাল এবং শুকনা খাবারের জন্য নগদ ৬৮ হাজার টাকা এবং শিশু খাদ্যের জন্য আরো ২৪ হাজার টাকাসহ ৯২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

উপজেলার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন ও উপজেলা সহকারী কমিশার (ভূমি)) ফারুক আহমেদ পরিদর্শন করেন। বন্যাদুর্গত অসহায় মানুষকে ত্রাণ সহায়তার আশ্বাস দেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিসার ফারুক হোসেন জানান, উপজেলায় কৃষকদের ৩৫০ হেক্টর আউশ ধান বন্যার পানিতে নিমজ্জিত।

নিজপাট ইউনিয়নের উপজেলা সদরের বন্দরহাটি, মেঘলী, তিলকৈইপাড়া নয়াবাড়ি, জাঙ্গলহাটিসহ বিভিন্ন এলাকা এবং পশ্চিম গৌরিশংকর, ডিবির হাওর, কামরাঙ্গীখেল, বাইরাখেল, হর্নি, কালিঞ্জীবাড়ি, দিগারাইল, নয়াগাতি, বারগতি, হেলিরাই, গুয়াবাড়িসহ আরো অনেক এলাকায় পানি প্রবেশ করে। অনেকেই বসতঘরে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। জৈন্তাপুর উপজেলার কেন্দ্রী, শেওলারটুক,বাওন হাওর, বাউরভাগ, লক্ষীপুর, বিরাইমারা, লামনীগ্রাম, কাটাখাল গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। গ্রামীণ জনপদের অনেক রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। চিকনাগুল ইউনিয়নের কাটুয়াকান্দি, কাপনাকান্দি শিখারখাঁ গ্রামের অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেকেই নৌকা দিয়ে চলাচল করছে।

দরবস্ত ইউনিয়ন নিম্নাঞ্চলের বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ইউনিয়নের সেনগ্রাম, গর্দ্দনা, হাজারী সেনগ্রাম, তেলিজুরী, ছাত্তারখাই গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। কয়েকটি গ্রামীন রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ জানান, ফতেপুর ইউনিয়নের বালিপাড়া, লামাশ্যামপুর, দলাইপাড়া এলাকার বিভিন্ন বসতবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

আরও পড়ুন:  গোয়াইপাড়া থেকে দুই সন্তানের জননী নিখোঁজ

উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়ন নয়াখেল, বালিদাড়া, থুবাং, ভিত্রিখেল, সরুখেল সহ আরো অনেক গ্রামে পাহাড়ি ঢলে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে চারিকাটা ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত স্থানীয় বাসিন্দাগণ অনেকটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। আকস্মিক বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন মৎস্যজীবিদের মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। বন্যায় কৃষকদের ধানের চারা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের মধ্যে সরকারি সহায়তা হিসাবে শুকনো খাবার বিতরণ করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে বন্যা কবলিত এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। বিভিন্ন ইউনিয়নের উঁচু এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে বন্যার জন্য আশ্রয় কেন্দ্র হিসাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সিলেটের বার্তা ডেস্ক


শেয়ার করুন/Share it
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১