আজ শনিবার, ১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মাহে রামাযান ও গাঙ্গুহী রাহ. এর মামুলাত

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত এপ্রিল ২৯, ২০২০, ০৪:৩৭ অপরাহ্ণ
মাহে রামাযান ও গাঙ্গুহী রাহ. এর মামুলাত
শেয়ার করুন/Share it

লুকমান হাকিম:: প্রথম রামাযানে সবাইকে তিনি জানিয়ে দিতেন, আজ থেকে মজলিস মুলতবী। রামাযানে খাওয়া-দাওয়া তিনি খুব অল্প করতেন। কথাবার্তা খুব কম করতেন।
শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রাহ. বলেন, মাহে রামাযানে হযরতের রিয়াজত-মুজাহাদার অধিক্যতা ও সোয়া-আরামের স্বল্পতা দেখলে কষ্ট লাগতো এবং দয়া হত। হযরতের বয়স যখন সত্ত রের ঊর্ধ্বে, বার্ধক্য ও দুর্বলতা প্রতিটি অঙ্গে-প্রত্যঙ্গে, কোমরে প্রচণ্ড ব্যাথা, হুজরা ও প্রস্রাবখানার দূরত্ব মাত্র ষোল কদম, সেই দূরত্ব অতিক্রম করতেও মাঝে-মধ্যে হোঁচট খেতেন- এই সেই অন্তিম সময়ে গাঙ্গুহী রাহ. ফরজ তো ফরজের গুরুত্বেই আদায় করেছেন, নফলও তখন তিনি বসে পড়েন নি। ঘণ্টা থেকে ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতেন। খাদেমরা বসে বসে নফল পড়ার কথা বললে, তাদেরকে বলতেন- জ্বী না। এ যে বড় কম হিম্মতের কথা।
কী আশ্চর্য হিম্মত!
উলাইকা আবাউনা!
ফাজি’ না বিমিছলিহিম!!

সারাদিন রোজা রাখতেন এবং বাদ মাগরিব ছয় রাকাতের পরিবর্তে বিশ রাকাত আওয়াবীন পড়তেন। এতে কমপক্ষে দুই পারা তেলাওয়াত করতেন। রুকু সিজদা এমন লম্বা হত যে, দেখলে মনে হত- হযরত নামাযের কথা ভুলে গেছেন। নামাজ শেষে বাড়ী যেতেন এবং খানা খাওয়া পর্যন্ত কয়েক পারা তিলাওয়াত করতেন। এশা ও তারাবিতে এক বা সোয়া ঘণ্টা লাগতো। রাতে কিছু আরাম করতেন। রাত দুইটা বা আড়াইটার দিকে জাগ্রত হতেন। ছাত্ররা অনেক সময় রাত ১টার দিকেও তাকে অযু করতে দেখতে পেতো। তাহাজ্জুদ পড়তেন। আড়াই তিন ঘণ্টা তাহাজ্জুদে কাটাতেন। পাঁচটার দিকে সাহরী নিয়ে হাজির হলে তখনও তাকে নামাজরত অবস্থায় ছাত্ররা দেখতে পেতো। বাদ ফজর আটটা, সাড়ে আটটা পর্যন্ত যিকির-আযকার, অযীফা ও মুরাকাবায় মগ্ন থাকতেন। তারপর ইশরাক পড়ে সামান্য আরাম করতেন। পরে চিঠিপত্রের জবাব, মাসআলা ও ফতোয়া লেখতেন-দিতেন। তারপর চাশতরে নামাজ শেষে কায়লুলা করতেন। বাদ জুহুর হুজরার দরজা বন্ধ করে আসর পর্যন্ত তেলাওয়াত করতেন। মসজিদ থেকে বাড়ীতে যাওয়া আসার সময় কারো সাথে কথা বলতেন না। তিলাওয়াতে মগ্ন থাকতেন। নামাজের ভেতর ও বাহির মিলিয়ে দৈনন্দিন তিনি ১৫পারা তেলাওয়াত করতেন। প্রথম জীবনে ২০রাকাত তারাবীহ তিনি নিজেই পড়ান। শেষজীবনে সাহেবজাদা হাফিজ হাকিম মুহাম্মদ মাসউদ সাহেবের পিছনে পড়েন। বিতরের পর লম্বা দু’ রাকাত কখনো দাঁড়িয়ে আবার কখনো বসে বসে পড়তেন। অতঃপর দীর্ঘক্ষণ কিবলামুখি হয়ে কী যেনো পড়তেন এবং পরে একটি সিজদা করে ওঠতেন। যাকারিয়া রাহ. প্রবল ধারণা করে বলেন, এই সময়ে গাঙ্গুহী রাহ. সুরা মুলক, হা-মীম সিজদাহ এবং সুরা ‘আদ তেলাওয়াত করতেন।
সুবহানাল্লাহ!
এছিল গাঙ্গুহী রাহ. এর বার্ধক্যে রামাযানিক আমল। এবার আমরা অনুভব করতে হবে হযরতের যৌবনে রামাযানিক আমল কেমন ছিলো! বা গায়রে রামাযানে তাঁর রিয়াজত-মুজাহাদা কতো গভীর ছিলো!!

আরও পড়ুন:  বালাগঞ্জে মসজিদুন নূর'র উদ্বোধন

একটু সামনে অগ্রসর হয়ে যদি জানতে চেষ্টা করি- আমার রামাযানিক মামুলাতের কথা। অনুভব করতে যাই আমারা রামাযানিক মুআমালাতের হালত- তাহলে লজ্জায় তাদের উত্তরসূরি দাবী করা থেকে নিজে বিরত থাকতোদে হবে। আমি এই দুর্বল আমল ও গায়র মাশরুঅ মামুলাত নিয়ে যখন তাদের উত্তরসূরি হিসেবে পরিচয় দিতে যাবো, তখন মকবুল আকাবীর পূর্বসূরি হিসেবে তারা চরম লজ্জিত হবেন। আমার আচরণ তাদের রুহকে আহত করবে। আমার উচ্চারণ তাদের আত্মাকে কষ্ট দেবে। আমার মতো আমলী গরীব উত্তরসূরি নিয়ে তারা যারপরনাই আফসুস করবেন। আকাবির তো আকাবিরই! তারা চলে গেছেন আলোর পথে। আমলী দুর্বল আসাগিরের আমল-মা’মুলের কারণে ইলমী আমলী সবল আকাবির কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। আমরা আসাগিররা মকবুল আকাবিরের পথেই হাঁটতে হবে। তবেই হতে পারবো মকবুল আকাবিরের মাশকুর আসাগির। এখানেই আমাদের উন্নতি। আল্লাহ কবুল করুন। আমীন।

সিলেটের বার্তা ডেস্ক


শেয়ার করুন/Share it
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১