আজ শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

হবিগঞ্জে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ ফেরতদের নিয়ে শঙ্কা

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত এপ্রিল ১১, ২০২০, ০৮:১৯ অপরাহ্ণ
হবিগঞ্জে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ ফেরতদের নিয়ে শঙ্কা

লিটন পাঠান, মাধবপুর প্রতিনিধি:: প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস নিয়ে এখন বিদেশফেরত নয়, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ ফেরতদের রীতিমতো শঙ্কায় পড়েছেন হবিগঞ্জের মাধবপুরবাসী।

যারা এ জেলায় এসেছেন, সরকারি নির্দেশনা মেনে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকায় তাদের মধ্যে কেউ করোনা সংক্রমিত হয়নি। বরং সম্প্রতি গার্মেন্টস শ্রমিকদের ঢাকায় নিয়ে যাওয়া এবং ফেরত পাঠানোয় রোগের সংক্রমণ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তারা।

তাছড়া বিদেশফেরতদের হালনাগাদ কোনো তথ্যও নেই জেলা প্রশাসনে। মাধবপুর উপজেলার এক গ্রামপুলিশ সদস্য জানান, স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মতো তারা তাদের এলাকায় বিদেশ ফেরতদের তালিকা করে হোম কোয়ারেন্টাইনে রেখে একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।

কিন্তু পরে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ যাওয়া গার্মেন্টস কর্মীরা ফেরত আসায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিস্থিতি সামলাতে কষ্ট করতে হচ্ছে তাদের একই কথা বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক ও সাবেক আন্দিউড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আতিকুর রহমান।

প্রশাসনের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী এলাকায় বিদেশফেরত সবাইকে খুঁজে বের করে নির্দেশনা মতো কাজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ রোগের সংক্রমণের ভয়াবহতা সম্পর্কে অনুভব করলে গার্মেন্টস কর্মীদের ঢাকায় নিয়ে যাওয়া বা আসার এমন ঘটনা ঘটতো না।জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের প্রচেষ্টায় হবিগঞ্জ জেলার করোনা পরিস্থিতি অন্য অনেক জেলার থেকে ভালো ছিল।

সম্প্রতি গার্মেন্টস খোলার বিষয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ঢাকার পথে যাতায়াতকারীদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হচ্ছে। তবুও সবার আন্তরিকভাবে চেষ্টা করতে হবে এ মহামারি রোগ থেকে পরিত্রাণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে অযথা বাইরে ঘোরাঘুরি না করে বাসায় অবস্থান করা।আতঙ্কিত না হয়ে সবার উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করা। তাছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের যে জনবল রয়েছে, ঢাকার পথে যাওয়া এসব গার্মেন্টকর্মীকে খুঁজে বের করে সরকারি নির্দেশনা মতো হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা অসম্ভব কিছু নয়।

এ প্রসঙ্গে মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইকবাল হোসেন জানান পুলিশ বিভাগ ও মাঠ পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সবাইকে বাসায় অবস্থান করতেও অনুরোধ করেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ এ কর্মকর্তা।করোনার ভয়াবহতা নিয়ে দিনভর সচেতনতামূলক নানা রকম কাজ চালিয়ে যাওয়া তিনি জানানবতাদের কাছে যতগুলো বিদেশফেরতের তালিকা ছিল, এ পর্যন্ত তার প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষকে খুঁজে বের করে সরকারি বিধি ও নির্দেশমতো ঘরে রাখা সম্ভব হয়েছে।

জনসাধারণ পুলিশ বিভাগকে সহযোগিতা করলে ও নির্দেশ মেনে চললে এ জেলায় করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলেও আশাবাদ উপজেলার শীর্ষ এ পুলিশ কর্মকর্তার। উল্লেখ্য ১১ এপ্রিল সকালে প্রাপ্ত রিপোর্টে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার একজন বাসিন্দা কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছেন।তিনি একমাত্র রোগী হবিগঞ্জ জেলার।তিনি গত ২ দিন ধরে আইসলোশনে ছিলেন। তিনি সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ ফেরত।

উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাশনূভা নাশতারাণ জানান, জেলা প্রশাসনের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী মাধবপুর উপজেলায় বিদেশফেরত যাদের খ খুঁজে বের করা সম্ভব হয়েছে এবং নির্দেশনা মেনেই তাদের জন্য করণীয় সবকিছুই করা হয়েছে।

বাকিদের খুঁজে বের করতে করোনা সংক্রান্ত ওয়ার্ড কমিটি কাজ অব্যাহত রেখেছেন। যার সভাপতি হিসেবে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য। তার সঙ্গে রয়েছেন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও গ্রাম পুলিশসহ অন্যরা। তিনি আরো জানান,সম্প্রতি ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলার জন্য আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।

সিলেটের বার্তা ডেস্ক


শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯