সরকারি মেডিকেল কলেজে একটি ব্লক (বন্ধ) পদ হচ্ছে ক্যাশিয়ার পদ। এ পদ থেকে কেউ পদোন্নতি পেয়ে স্টেনোগ্রাফার হতে পারেন না। কিন্তু বিধি বর্হিভূতভাবে ব্লক পদ ক্যাশিয়ার থেকে স্টেনোগ্রাফার ও সচিব ‘ডাবল পদে’ পদোন্নতি নিয়ে বহাল তবিয়তে আছেন মো. মাহমুদুর রশীদ দিদার।
অভিযোগ উঠেছে- দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ক্যাশিয়ার থেকে স্টেনোগ্রাফার এবং স্টেনোগ্রাফার থেকে সচিব পদেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। নিয়োগ বিধি ভঙ্গের এ ঘটনাটি ঘটেছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে।
নিয়োগ বিধি অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মচারীদের পদোন্নতি প্রদানের ক্ষেত্রে নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারী (জৈষ্ঠ্যতা ও পদোন্নতি) বিধিমালা-২০১১ অনুসরন করা বাধ্যতামূলক।
নিয়োগ বিধি ২০১৮-তে আছে, নন মেডিকেল কর্মচারী স্টেনোগ্রাফার পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র স্টেনোটাইপিস্ট পদে নূন্যতম ৫ বছরের চাকরি হতে হবে। সেইসাথে বিধিমালা-২০১৯ ক্রমিক ৫ অনুযায়ী, স্বাস্থ্য বিভাগের স্টেনোগ্রাফার পদে সরাসরি নিয়োগ প্রদান করতে হবে এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র স্টেনোটাইপিস্ট পদ থেকে পদোন্নতি প্রদান করতে হবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিলেট মেডিকেল কলেজের স্টেনোগ্রাফার (পিএ) মো. মাহমুদুর রশীদ ওরপে দিদারের পদোন্নতি বা পদায়নের ক্ষেত্রে উপরিল্লিখিত বিধিমালার কোনোটিই অনুসরন করা হয়নি। বরং তাকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এ পদ দেয়া হয়েছে।
বিধিমালা অনুযায়ী, স্টেনোটাইপিস্ট থেকে পদোন্নতি দেয়া যায়। তবে স্টেনোটাইপিস্ট পদে যোগ্য লোক না থাকলে সরাসরি নিয়োগ দেওয়ার বিধি রয়েছে। তখন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রার্থীদের থেকে বাছাই করে স্টেনোগ্রাফার নিয়োগ করা যায়। কিন্তু বিধিমালার তোয়াক্কা না করেই মো. মাহমুদুর রশীদ দিদারকে পদোন্নতি দিয়ে স্টেনোগ্রাফার করা হয়েছে। নিয়ম অনুসারে তিনি ক্যাশিয়ার থেকে এ পদোন্নতি পেতে পারেন না।
অভিযোগ রয়েছে, তাকে পদোন্নতি দিয়েছিল কলেজটির সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী। এখানে কর্মচারীদের জ্যৈষ্ঠ্যতা ও চাকরির বিধি মানা হয়নি।
নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, ১৯৯৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর মো. মাহমুদুর রশীদ দিদার সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের ক্যাশিয়ার পদে যোগদান করেন। ২০১৬ সালে কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন ডা. মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী। তার সময় নিয়োগ কমিটি বিধিমালার শর্ত ভঙ্গ করে মো. মাহমুদুর রশীদ দিদারকে স্টেনোগ্রাফার পদোন্নতি দেয়। ২০২২ সালের ৩০ এপ্রিল সচিব পদেও দায়িত্ব দেওয়া হয় দিদারকে।
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ-এর বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী বলেন,‘পিএ দিদার-এর বিষয়ে আমাকে অনেকেই বলেছে। কিন্তু এ বিষয়ে আমি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারি না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বিষয়টি অবগত করলে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। আর পিএ দিদারের নিয়োগ আমার আমলে হয়নি। তাই এ বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না।’
জানতে চাইলে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন,‘ যাদের এ পদ প্রাপ্য ছিলো, সেই বঞ্চিতরা যদি এ বিষয়ে আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন, তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. এ বি এম আবু হানিফ বলেন,‘ভুক্তভোগী কেউ যদি আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন, তা হলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরেও বিষয়টি পাঠানো হবে। তবে অবশ্যই লিখিত অভিযোগ ও ডকুমেন্টস পাঠাতে হবে।’
অভিযোগ অস্বীকার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ-এর স্টেনোগ্রাফার (পিএ) ও সচিব মো. মাহমুদুর রশীদ দিদার বলেন, আমার পদোন্নতি অবৈধ নয়। আমাকে সাবেক অধ্যক্ষ মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরীর নিয়োগ কমিটি পদোন্নতি দিয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সিলেট সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক নাজমুস সাদাত রাফি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কোনো লিখিত পাইনি। যদি লিখিত অভিযোগ পাই, তবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবো। কারণ, যে পদ থেকে পদোন্নতি হয় না, সেখান থেকে পদোন্নতি অবশ্যই দুর্নীতি। আমরা চাচ্ছি, সিলেটকে দুর্নীতিমুক্তকরণ রোল মডেল প্রকল্প হিসেবে নিবো। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি তদন্ত করা হবে।’
মূল রিপোর্ট: সিলেটের মানচিত্র