আজ সোমবার, ১২ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিলেটে ইসলামী ও সমমনা আট দলের বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত ডিসেম্বর ৭, ২০২৫, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
সিলেটে ইসলামী ও সমমনা আট দলের বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত

“ফ্যাসিস্টরা দেশ ছেড়ে পালালেও ফ্যাসিজমের কালো ছায়া এখনো কাটেনি” বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, একদল অপকর্ম করে পালিয়েছে, আরেকদল সেই অপকর্মের দায় কাঁধে তুলে নিয়েছে। কেউ চাঁদাবাজি করে জনগণের ক্ষোভের কারণ হয়েছে। আবার কেউ আরও বেশি শক্তি নিয়ে একই কাজ করছে।

শনিবার বিকেলে নগরের আলিয়া মাদরাসা মাঠে ইসলামী ও সমমনা আট দলের বিভাগীয় সর্বশেষ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ছোট্ট একটি দেশ। বিপুল সম্পদে পরিপূর্ণ ছিল।আফসোস, স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও এদেশের মানুষ সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি, কারণ বর্গীরা চলে যাওয়ার সময় দেশের ভেতরে চিলগুলো ছুঁ মেরে জনগণের সম্পদ নিয়ে চলে গেছে। দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করে বাইরে পাচার করেছে। দেশে দেশে বেগম পাড়া গড়ে তুলেছে।

তিনি বলেন, কেউ কেউ পালাতে গিয়ে খালে বিলে আশ্রয় নিয়েছে। আবার রসিক সিলেটবাসীর কাছে কেউ কেউ কলাপাতায় ধরা পড়েছে। এভাবেই অপকর্মের দায় নিয়ে ফ্যাসিস্টরা বাংলাদেশ থেকে পালিয়েছে। কিন্তু ফ্যাসিজমের কালো ছায়া বাংলাদেশ থেকে যায়নি। একদল দখলদার হয়ে জনগণের ঘৃণা কুড়িয়েছে, আরেকদল বেপরোয়া দখলদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একসময় বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের, আলেম–ওলামাকে জেল, নির্যাতন, ফাঁসি ও দেশছাড়া করার যে প্রবণতা ছিল, সেটি এখনো থামেনি।

জামায়াতে আমির সতর্ক করে বলেন, বাঁকা পথে প্রশাসনিক ক্যু’র মাধ্যমে নির্বাচন ক্রেডিট হাইজ্যাক করার কালো সূর্য ডুবে গেছে। এই সূর্য আর বাংলাদেশে উঠবে না। এই কালো সূর্যের মুখ বাংলাদেশ আর দেখবে না। এখন নতুন সূর্যের উদয় হবে।

তিনি বিএনপিকে ইঙ্গিত করে জনগণ তাদেরকে আগামী নির্বাচনে লালকার্ড দেখানোর জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছে। এই লাল কার্ড দেখা থেকে বাঁচতে গিয়ে, যদি কেউ আগামী নির্বাচনকে ভণ্ডল করার চেষ্টা করে, আমরা মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে বলছি, তাদের সকল ষড়যন্ত্র এদেশের সংগ্রামী জনগণ ভন্ডুল করে দেবে ইনশাআল্লাহ।

সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা কোনও সংস্কারে রাজি না। তারা সনদ বাস্তবায়নে রাজি না। তারা গণভোটেও প্রথমে রাজি ছিল না। তারপরও ধাক্কায় ধক্কায় গণভোট একদিনেই হতে হবে, তা তারা বাধ্য করেছে সরকারকে। এখন আবার কোথাও কোথাও আমরা ক্ষীণ সুর শুনতে পাচ্ছি। যারা এতদিন নির্বাচনের জন্য নির্বাচন নির্বাচন করে জনগণকে বেহুশ করে তুলেছিল। এখন তারা ভিন্ন সুরে কেউ কেউ কথা বলতে শুরু করেছে। এ লক্ষণ ভালো নয়। তারা বুঝতে পেরেছেন।

জোটের বাইরে থাকা ইসলামি দলকে উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি বন্ধুদেরকে অনুরোধ করব সকল জাল ছিন্ন করে আপনারা আপনাদের আঙ্গিনায় চলে আসুন। এই আঙ্গিনা আপনাদের আঙ্গিনা। এখন যেখানে ঘোরাফেরা করছেন, এটা আপনাদের আঙ্গিনা না। তাদের সাথে আপনাদেরকে মানায় না। আপনারা বড় বেমানায় হয়ে গেছেন। আপনারা ঘরের ছেলে ঘরে চলে আসুন। আমরা আপনাদেরকে বুকে জড়িয়ে কবুল করব, অভিনন্দন জানাবো, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বাংলাদেশ ছোট্ট একটি দেশ বিপুল জনসম্পদে পরিপূর্ণ। আফসোসের বিষয় স্বাধীনতার ৫৪ বছর একেক করে চলে গেছে। বাংলাদেশের মানুষ সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি। কারণ বর্গীরা চলে যাওয়ার পর দেশের ভিতরের চিল যারা ছিল সেই ছিল গুলো ছুঁ মেরে জনগণের সম্পদ নিয়ে চলে গেছে। দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করে বাইরে পাচার করেছে। দেশে দেশে বেগম পাড়া গড়ে তুলেছে। কেউ কেউ পালাতে গিয়ে খালে বিলে আশ্রয় নিয়েছে। আবার রসিক সিলেটবাসীর কাছে কেউ কেউ কলাপাতায় ধরা পড়েছে। এভাবেই অপকর্মের দায় নিয়ে ফ্যাসিস্টরা বাংলাদেশ থেকে পালিয়েছে। কিন্তু ফ্যাসিজমের কালো ছায়া বাংলাদেশ থেকে যায়নি।

তিনি বলেন, একদল যে অপকর্ম করে চলে গিয়েছে, আরেকদল বাংলাদেশে সেই অপকর্মের দায়িত্ব নিয়েছে। একদল চাঁদাবাজি করার কারণে জনগণের ঘৃণা কুড়িয়েছে। আরেকদল আবার তার চাইতে বেশি শক্তি দিয়ে চাঁদাবাজিতে নেমে পড়েছে। একদল দখলদার বনতে গিয়ে জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আরেকদল বেপরোয়া দখলদার হয়ে উঠেছে। একদল জনগণের জানমাল দিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। আলেম, ওলামা, বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে হত্যা করেছে, খুন করেছে, ফাঁসি দিয়েছে, নির্যাতন করেছে। আরেকদল ঠিক একই পথ ধরেছে। এমনকি নিজেদের মধ্যে মারামারিতেও নিজেদেরকে শেষ করে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, দফায় দফায় এত রক্ত, এত ত্যাগের পরে দেশবাসী কি আশা করেছিল? দেশবাসী আশা করেছিল, অতীতের অপকর্মের যে পরিণতি ঐটা থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজনীতিবিদরা নতুন রাজনীতি শুরু করবে। কিন্তু আমরা দুঃখের সাথে দেখতে পাচ্ছি, একদল সেই পুরাতন ধারায় পড়ে আছে। তারা কোনও সংস্কারে রাজি না। তারা সনদ বাস্তবায়নে রাজি না। তারা গণভোটেও প্রথমে রাজি ছিল না। তারপরও ধাক্কায় ধক্কায় গণভোট একদিনেই হতে হবে, তা তারা বাধ্য করেছে সরকারকে। এখন আবার কোথাও কোথাও আমরা ক্ষীণ সুর শুনতে পাচ্ছি। যারা এতদিন নির্বাচনের জন্য নির্বাচন নির্বাচন করে জনগণকে বেহুশ করে তুলেছিল। এখন তারা ভিন্ন সুরে কেউ কেউ কথা বলতে শুরু করেছে। এ লক্ষণ ভালো নয়। তারা বুঝতে পেরেছেন।

তিনি আরও বলেন, তারা যে সমস্ত কর্মকাণ্ড বাংলাদেশে পরিচালনা করছেন, জনগণ তাদেরকে আগামী নির্বাচনে লালকার্ড দেখানোর জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছে। এই লাল কার্ড দেখাতে বাঁচতে গিয়ে যদি কেউ আগামী নির্বাচনকে ভণ্ডল করার চেষ্টা করে, আমরা মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে বলছি, তাদের সকল ষড়যন্ত্র এদেশের সংগ্রামী জনগণ ভন্ডুল করে দেবে ইনশাআল্লাহ। কেউ যদি আবার চিন্তা করে জনগণের সমর্থন পাবো না, তাহলে বাঁকা পথে প্রশাসনিক ক্যু’র মাধ্যমে আমরা নির্বাচনের ক্রেডিট হাইজ্যাক করবো। তাদেরকে বলবো বন্ধু সেই সূর্য ডুবে গেছে, এই সূর্য আর বাংলাদেশে উঠবে না।এই সূর্য আর কালো সূর্য বাংলাদেশের মুখ দেখবে না।এখন নতুন সূর্যের উদয় হবে। দুই একটি ইসলামি দল এখনও তার বাইরে আছেন। আমি বন্ধুদেরকে অনুরোধ করব সকল মুখের জাল ছিন্ন করে আপনারা আপনাদের আঙ্গিনায় চলে আসুন। এই আঙ্গিনা আপনাদের আঙ্গিনা। এখন যেখানে ঘুরাফিরা করছে এটা আপনাদের আঙ্গিনা না। তাদের শীর্ষনেতারা বলেন, আমরা শরিয়াহ আইন বিশ্বাস করি না। তারা মুসলমানদেরকে মৌলবাদী জঙ্গি বলে। তাদের সাথে আপনাদেরকে মানায় না। আপনারা বড় বেমানায় হয়ে গেছেন। সেখানে যেখানে মানায় ঘরের ছেলে আপনারা ঘরে চলে আসুন। আমরা আপনাদেরকে বুকে জড়িয়ে কবুল করব। ইনশাআল্লাহ অভিনন্দন জানাব, সম্মান দেব, ভালোবাসব। অন্য ঠিকানায় থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। আপনি সম্মানের ঠিকানায়, কুরআনের ঠিকানায়, মানবতার মুক্তির ঠিকানায় ফিরে আসুন। আপনি কেন ছত্রভাজনের অংশীদার হবেন? আপনি কেন দখলদারীর সমর্থক হবেন? আপনি মেহেরবানি করে এই অপবাদ নিজেদের গলায় তুলে নেবেন না। আসুন আপনারা ফিরে আসুন। আমরা আপনাদের ভাই। আপনারাও আমাদের ভাই। আজকে বাংলাদেশের দিকে চোখ ফেলে খোলা চোখে তাকান। আজকে সমস্ত ইসলামিক এবং দেশপ্রেমিক শক্ত শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এই স্মার্ট কোটি ঐক্য ইতিমধ্যেই গড়ে উঠে হয়েছে। এই ঐক্য ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। আজকে রাস্তাঘাটে, হাটে বাজারে, নগরে বন্দরে সকল জায়গায় মুক্তিপাগল মানুষ। তারা জানিয়ে দিচ্ছে আগামীতে তারা কোথায় ভোট দেবে। তারা এখন আর কারো রক্তচক্ষুকে পরোয়া করছে না। কেউ কেউ আমাদেরকে অন্যদের রক্তচক্ষুর ভয় দেখান। অমুক শক্তি, তমুক শক্তি, অমুক দেশ, তমুক দেশ। তাদেরকে পরিষ্কার বলি। ইসলামি এবং দেশপ্রেমিক নেতাকর্মীরা হাসি হাসি যেখানে ফাঁসিভরণ পড়তে পারে মেহেরবানি করে তাদেরকে কোনো কিছুর ভয় দেখাবেন না। আমরা ভয় করি শুধু আল্লাহতায়ালাকে। বাকি যাদের কথা বলেন তাদেরকে আমরা কোনো পাত্তাই দেই না। ইয়েস, বিশ্বের সকল শান্তিকামী সর্বদেশকে আমরা সম্মান জানাই। কিন্তু কেউ যেন আমাদের উপরে কোনো দাদাগিরি করতে না আসে। আমরা আর কারও দাদাগিরি দেখতেও চাই না। বরদাশত করতেও রাজি নই। বাংলাদেশ চলবে আল্লাহতায়ালার নির্দেশ মোতাবেক। এই দেশের জনগণের পছন্দে। এর বাইরে কারো পছন্দ অপছন্দের কথা আমরা শুনতে চাই না। যারা অন্যদের কল্পবিবাহ হবে তাদেরকে বলব। আগে যারা তবেদারি করেছে তাদের থেকে মেহেরবানি করে একটু শিক্ষা গ্রহণ করুন। যারা গিয়ে তাদের পেটে আশ্রয় নিয়েছে এটা অখাদ্য। এরা ওখানে গিলতেও পারছে না। ফেলতেও পারছে না। এই পর্যায়ে এসে গেছে। আপনারা যাবেন কোথায়? আপনারা এই দেশে থাকেন। এই দেশে থাকেন। এই দেশের মানুষের তাদের যে আকাঙ্ক্ষা সেটাকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করেন।

নির্বাচন পেছানোর জন্য ওরা পাগল হয়ে গেছে: চরমোনাই পীর

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, নির্বাচনের জন্য যারা পাগল হয়ে যাচ্ছিল, এখন ওরা নির্বাচনকে পেছানোর জন্য পাগল হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, রাশি যখন বামে ঘোরে, তখন যত পরিকল্পনা সব বামেই যায়। আপনারা যত শয়তানি পরিকল্পনা করবেন, ততই বাংলাদেশের জনগণ থেকে আপনারা বিচ্ছিন্ন হবেন, কোন সন্দেহ নাই।

তিনি আরও বলেন, আমরা যারা দেশপ্রেমিক রয়েছি, মানবতা প্রেমিক রয়েছি, আমরা যদি ভুল করি, যদি ব্যর্থ হই। যখন আমাদের ইতিহাস প্রজন্ম লিখবে, তখন কলঙ্কজনক ইতিহাস আমাদের জন্য লিখবে।

মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম বলেন, আজকে এই সমাবেশ প্রমাণ করে বাংলাদেশের মানুষ আমাদের পাঁচদফা পক্ষে রয়েছেন। আমাদের এই দাবিগুলো নিয়ে আমরা রাস্তায় নামলাম কেনো? এর মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য হলো ৫ই আগস্টে চব্বিশে হাজার হাজার মায়ের কোল সন্তান হারা হলো। অনেকে চক্ষু হারিয়েছে, পঙ্গু হয়েছে। জনপ্রিয় নেতা ইলিয়াস আলী সাহেব গুম হয়ে ফেরত আসেনি। আর কোনোদিন আসবে বলে মনে হয় না। কিন্তু আজকে দুঃখের মধ্যে বলতে হয়, যে বাংলাদেশের মধ্যে ৫৩ বছর পর্যন্ত যারা আমাদেরকে জিম্মি করে রেখেছিলো তাদেরও চরিত্র আজ আমরা দেখেছি। তারা তাদের নিজেদের কাছে নিজেরা নিরাপদ নয়। আজকে তারা নিজেরা নিজেদেরকে খেয়ে ফেলছে।

তিনি বলেন, “আমার দুঃখ হয়, এত গুম হলো, যখন হলো লক্ষ লক্ষ দলীয় নেতা কর্মীর জীবনকে বিপন্ন হলো, জেলের মধ্যে গেলো। আমাদের দাবি ছিল জুলাই ৫ আগস্টের অভ্যুত্থান। দেশকে সুন্দর করার জন্য সংস্কার হবে। এই খুনীদের, গুমিদের, টাকা পাচারকারীদের দৃশ্যমান বিচার হবে। এরপরে লেভেল প্লেইয়িং ফিল্ড নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে। কিন্তু আমরা দেখে হতবাক। আজকে সংস্কারের ব্যাপারে বাধা, দৃশ্যমান বিচারের ব্যাপারে বাধা। আজকে নির্বাচনের জন্য যারা পাগল হয়ে যাচ্ছিল। আজকে যখন তারা দেখেছে, আজকে বাংলাদেশের জনগণ বেসিকদের পক্ষে এবং জালেম চাঁদাবাজদের পক্ষে নয়, ওদের প্রত্যাবস্থান করেছে। এখন ওরা পাগল হয়ে গেছে, আজকে নির্বাচনকে আবার পিছাবার জন্য। কিন্তু আমরা পরিষ্কার বলব নির্বাচন পেছানো যাবে না।

জুলাই সনদে মানুষ দুই শিবিরে বিভক্ত: মামুনুল হক

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে আজ দেশের মানুষ দুই শিবিরে বিভক্ত। একটি পক্ষ যে কোনও বাহানায় জুলাই সনদকে এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে চায়। তারা চিন্তা করে, বিগত সময়ে বছরের পর বছর একদল শাসন করেছে। আগামীতেও বছরের পর বছর অন্য কেউ এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার মধ্য দিয়ে বাংলার সম্পদ লুঠপাট করবে, মানুষের রাজনৈতিক অধিকার তারা খর্ব করবে। যারা জুলাই সনদের বিরুদ্ধে যাবে, তাদের বাংলার মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে।

তিনি বলেন, আজ যখন জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শক্তি বিতাড়িত হয়েছে, বাংলাদেশ বিরোধী বিদেশি আধিপত্যবাদী নতুন আরেক শক্তি বাংলাদেশের ঘাড়ে সওয়ার হওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশ ইতিহাস সৃষ্টির এক দ্বারপ্রান্তে উপনীত। আমরা বলতে চাই, বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে ১৫ বছর পর্যন্ত রাষ্ট্রযন্ত্রের নিপীড়ন, নিষ্পেষণ, জুলুম, নির্যাতনের শিকার হয়েছে এদেশের ইসলামপন্থী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা।

বিদেশি আধিপত্যবাদী শক্তির বাংলাদেশি গৃহকর্তার হাতে ইসলামি আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ নিগৃহীত হয়েছেন। কারানির্যাতিত হয়েছে, ফাঁসির কাষ্ঠ বরণ করেছেন, জেল-জুলুম বরদাস্ত করেছেন, রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে। এরপরও অন্যায়ের সামনে, জুলুমের সামনে মাথা নত করে নাই।

তিনি বলেন, আমরা পরিস্কার ভাষায় বলতে চাই, জীবন দিয়ে জুলাই যুদ্ধারা বাংলার মাটি থেকে ফ্যাসিবাদীদের উৎখাত করেছে। বাংলার মাটিতে নতুন কোন ফ্যাসিবাদকে জায়গা করতে দেবে না।

নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টাকারীদের রাজপথে মোকাবেলা করতে হবে মন্তব্য করে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, পরাজিত ফেসিবাদের সঙ্গে আতাত করে কেউ যদি আগামী দিনে জুলাই সনদের বিপক্ষে “না” বাক্সের জন্য ক্যাম্পেইন করে, বাংলার মানুষ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে।

তিনি বলেন, ইসলামি জনতাকে ইসলামি রাজনীতিকে রুখে দেওয়ার দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে যাদের কাঁধে সওয়ার হয়েছে, তাদেরকে আমরা আবার নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা পুনর্বিবেচনা করবার সুপরামর্শ দিতে চাই-এই বাংলাদেশে আর কোনদিন ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না ইনশাআল্লাহ।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আগামীর বাংলাদেশ, ইসলামের বাংলাদেশ। আগামীর বাংলাদেশ, মেহনতি মানুষের বাংলাদেশ। আগামীর বাংলাদেশ, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের অধিকার আদায়ের বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, সমাগত ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির যে নির্বাচন, এটি শুধু প্রতীকের নির্বাচন নয়। এটি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঐতিহাসিক গণভোটেরও নির্বাচন। তাই আট দলের নেতাকর্মী- আপনারা প্রতি ঘরে ঘরে, প্রতি জনে জনে নিজেদের দলীয় প্রতীকের প্রচারণার পাশাপাশি জনগণকে “হাঁ” বাক্সে “হাঁ” ব্যালটে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, বাংলাদেশ মুসলিম দেশ, এখানে কুরআনের শাসন চলবে। ফ্যাসিবাদ চিরতরে বাংলার জমিন থেকে মুছে গেছে। নমরুদদের জন্য যেমন মুছা ছিলেন, তেমনি ফ্যাসিবাদ বিতাড়তে ইসলামী দলগুলো রয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি এখন দেখছে পায়ের তলে মাটি নেই। মামলা দিয়ে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছে। এই চাঁদাবাজিদের বাংলার মানুষ ক্ষমতায় দেখতে চায় না। আগামি ৮ দল সরকার গঠন করবে।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মুজিবুর রহমান বলেন, চব্বিশের জুলাই-আগস্টে হাজার হাজার জনতা রক্ত দিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকার উৎখাত করেছে। এই রক্ত দেওয়ার কারণ এদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করা। অন্তবর্তী সরকারকে মানুষ আশা নিয়ে ক্ষমতা দিয়েছিলেন যাতে, অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন করতে পারে। কিন্তু তারা পারেনি। স্বাধীনতার পর সোনার বাংলা, নতুন বাংলা, ডিজিটাল বাংলা দেখেছি। কোনো বাংলা শান্তি দিতে পারেনি। তাই কুরআন সুন্নাহর আলোকে সরকার গঠন করলে শান্তি ফিরে আসবে। যারা কুরআন সুন্নাহর আইনকে বিশ্বাস করে না, তারা জান্নাতে যেতে চায় না। আগামির দেশ হবে কুরআন সুন্নাহ ও ইসলামী হুকুমতের বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ নেজামে ইলাম পার্টির নায়েবে আমীর আব্দুল মাজেদ আজহারী বলেন, আট দল ঐক্যবদ্ধভাবে ১৮ কোটি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির ভাগ্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে সমাবেশ করেছে। আমরা পলাশী থেকে জুলাই আগস্টে রক্ত দিয়েছি। আর রক্ত দিতে চাই না। শতাব্দি থেকে শতাব্দি রক্ত দিয়েছি। আর রক্ত দেবো না। এবার রক্ত দেওয়ার ফসল উঠাবো। এবার কুরআন সুন্নাহ ও মদীনার আলোকে দেশ পরিচালনা করবো। আগামি নির্বাচনের মাধ্যমে রক্তের প্রতিশোধ নেবো, কুরআন সুন্নাহ ও জাতীয় সংসদের মাধ্যমে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করিম জালালী মদীনার সনদে আগামির রাষ্ট্র সংসদ চলবে। মদীনা সনদের বাইরে কেউ কথা বলতে পারবে না। আগামি দিন ইসলামের বাংলাদেশ হোক।

খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ সভাপতিত্বে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার কেন্দ্রীয় সহসভাপতি রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ ডেভোলাপমেন্ট পার্টি-বিডিপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল হক চাঁন প্রমুখ।

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১