আজ মঙ্গলবার, ১৩ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিএনপির কাছে জমিয়ত মূল্যায়নে অনীহা—পেছনে কী রহস্য?

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত ডিসেম্বর ৫, ২০২৫, ০৬:৩৪ অপরাহ্ণ
বিএনপির কাছে জমিয়ত মূল্যায়নে অনীহা—পেছনে কী রহস্য?

বিরোধী রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্প্রতি বিএনপি–জমিয়ত সম্পর্ক শিথিল হওয়ার ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শরিক দল হিসেবে প্রত্যাশিত গুরুত্ব না পাওয়ায় জমিয়তের ভেতরে প্রশ্ন দানা বাঁধছে—বিএনপি কেন জমিয়তকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করছে না? অনুসন্ধানে উঠে এসেছে তিনটি প্রধান কারণ, যা শুধু সম্পর্কের টানাপোড়েনই নয়, জমিয়তের ভবিষ্যৎ কৌশলকেও প্রভাবিত করছে।

১) লিয়াজো কমিটির ব্যর্থতা—স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রশ্নে জমিয়তের সংকট
বিএনপির সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে জমিয়ত লিয়াজো কমিটি গঠন করেছিল। কিন্তু সেই কমিটি প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে—এমন অভিযোগই সংগঠনের অভ্যন্তরে। অভিযোগ রয়েছে, কমিটির কিছু নেতার মনোযোগ ছিল বিএনপির সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক গঠনের চেয়ে নিজেদের সম্ভাব্য আসন নিশ্চিত করার দিকে। এর ফলে বিএনপির দৃষ্টিতে জমিয়ত কাঙ্ক্ষিত প্রভাব ও গুরুত্ব ধরে রাখতে পারেনি।

বহুদিন ধরে সমালোচকরা অভিযোগ করে আসছিলেন—মাত্র ৩–৪টি আসনের আশায় জমিয়ত বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে। সেই সময় দলটি এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিলেও বর্তমান বাস্তবতা সেই অভিযোগকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। এখন জমিয়তের অভ্যন্তরেই প্রশ্ন উঠছে—তখন যে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছিল, তার জবাব আজ কী?

২) জামাত–ইস্যুতে কঠোর অবস্থান বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দিয়েছে

জামাতের সঙ্গে আকিদাগত মতপার্থক্যকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে জমিয়ত যখন সরাসরি জামাতের বিরোধিতায় যায়, তখন বিএনপি বিষয়টিকে নতুন দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করে। বিএনপির ভেতরের একটি অংশ মনে করে—জমিয়ত ইতোমধ্যেই জামাত থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে ফেলেছে। তাই দলটি বিএনপির জোট ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার পথ খোলা নেই।

এই ধারণা থেকেই বিএনপিতে একটি মনোভাব তৈরি হয়েছে—জমিয়ত এককভাবে নির্বাচন করলে উল্লেখযোগ্য সুবিধা তাদের আসবে না। ফলে বেশি চাপ বা মূল্যায়ন ছাড়াই জমিয়তকে পাশে রাখা সম্ভব। এই রাজনৈতিক মানসিকতাই জমিয়তের প্রতি বিএনপির গুরুত্ব কমিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ।

৩) শরিকদের আসন কমানোর সিদ্ধান্তে জমিয়তের ভাগ্য সংকুচিত
শুরুতে বিএনপি শরিক দলদের জন্য ৫০–৬০টি আসন ছাড়ার নীতিগত পরিকল্পনা করে। এতে জমিয়ত ৮–১০টি আসন পেতে পারে—এমন আশা দলটিতে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টে যায় নতুন ‘ইউনুস সরকার’ শরিকদের নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করার প্রজ্ঞাপন জারি করলে।
এই ঘোষণার পর বিএনপির কৌশলগত বিশ্লেষণে উঠে আসে—ধানের শীষ প্রতীক ছাড়া শরিক দলের প্রার্থীদের জয় পাওয়া কঠিন। ফলে শরিকদের জন্য আসন সংখ্যা কমিয়ে ২০–২৫টিতে নামিয়ে আনা হয়। এতে জমিয়তের সম্ভাব্য ৮–১০টি আসন একেবারেই হাতছাড়া হয়ে যায়।
এর ফলেই জমিয়তের ভেতরে এখন হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পূর্ব প্রতিশ্রুত আসনের সম্ভাবনা ভেঙে পড়ায় দলটি নতুন পথ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে।

জমিয়তের নতুন পথচলা: একক নির্বাচনের পথে
বিএনপি থেকে প্রত্যাশিত মূল্যায়ন না পেয়ে জমিয়ত এখন কার্যত একক নির্বাচনের পথে এগোচ্ছে। কেন্দ্র থেকে ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ের নেতাদের নিজ নিজ আসনে প্রচারণা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে—জোট রাজনীতির চাপে পড়ে অপেক্ষা করার বদলে জমিয়ত স্বাধীন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দিকে হাঁটছে।

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১