মাধবপুরে আগের মতো আর চোখে পড়ে না সাদা বক। অথচ আগে আকাশে যখন সারি মেলে উড়ত সাদা বক। যখন ঝাঁকে ঝাঁকে এসে পড়তবড় বড় কোনো গাছে কিংবা বিলের ধারে। একপায়ের ওপর ভর করে ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে যখন মাছ শিকার করে নিয়ে যেত তাদের বাসায়। সেই প্রাকৃতিক দৃশ্য ছিল দেখার মতো। এ নিয়ে কবি-সাহিত্যিকরাও লিখেছেন বিস্তর। কবি ফররুখ আহমদ লিখেছেন, ‘বকের সারি কোথা রে/লুকিয়ে গেল বাঁশবনে’।
সেই সাদা বক এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখন আর খাবারের সন্ধানে বিল-নদী ও জলাশয়ে আসে না সাদা বক। জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার, গাছপালা নিধন ও শিকারসহ নানা কারণে বিলুপ্তির পথে আজ এই পাখি।
শিকারীরা বিভিন্ন পন্থায় বক শিকার করে তা আজ বিলুপ্তির পথে। বক শিকারীরা বাঁশের চিপ দিয়ে গোলাকৃতির খাঁচা বানায়। তা আড়াই ফুট প্রস্থ ও সাড়ে ৩ ফুট উচ্চতায়। ওই খাঁচার বাহিরের দিকে বেতের পাতা স্তরে স্তরে সাজিয়ে দেওয়া হয়। উপরের দিকে দিয়ে বেত পাতা খাড়া ভাবে লাগিয়ে শিকারী এ ফাঁদের ভিতরে ঢুকে পালিত বকের সাহায্যে কৌশলে বক শিকার করে। আবার অনেকে নাইলন সুতায় গিট দিয়ে সুতার মাথা কাঠির সাথে বেধে ক্ষেতের আইলে শক্তভাবে বসিয়ে ফাঁদ পাতে।
অনেকে সন্ধ্যায় বক যখন বাসায় ফিরে তখন মার্বেল পাথর অথবা এটেঁল মাটির গোলাকৃতির গুলি বানিয়ে বাঁশের গোলাইনের সাহায্যে গুলি করে শিকার করে বক। আবার অনেক সাহেব লোক এক নলা বন্দুক ও দুই নলা বন্দুক দিয়ে বিলের পাড়ে থাকা বকের ঝাঁকের উপর গুলি করে বক শিকার করে।
অনেকে কলের উপর মাছ লাগিয়ে ফাঁদ পাতে। অনেকে বর্শির মধ্যে মাছ লাগিয়ে ফাঁদ পাতে বড় দিঘিতে। অনেক বক শিকারী বক শিকার করে জীবিকা নিবার্হের জন্য বাজারে নিয়ে আসে বক। খাওয়ার জন্য অনেকে তা কিনে নিয়ে যায়। অনেক ছেলেরা তা কিনে পালন করে। বকের প্রধান খাদ্য মাছ। বর্তমানে নদীনালা খাল বিল শুকিয়ে যাওয়ায় বকের খাদ্যের সংকটে বকের প্রজনন কমে গেছে।
উপজেলার বুল্লা বিল, মাধবপুর বিল, বৈচা বিল, বাকসাইর বিলে, বুল্লা বিল, বাকসাইর বিলে কিছুকিছু বক চোখে পড়লেও অন্যবিলে পানি শূন্য থাকায় বক চোখে পড়ে না।
মুরাদপুর গ্রামের জিয়াউর রহমান জানান, পানি শূন্যতায় মাছের আকাল ও বন উজার হওয়ায় বকের বাসস্থান নষ্ট ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ছোট ছোট ডোবা, নালা, জলাশয় সেচে মাছ ধরার কারণে আজ বক শুন্য হতে চলেছে।
পরিবেশবিদ ও এলাকার সচেতন মহল মনে করেন নদী উজানে পানি শূন্য নদী ও বন জঙ্গল উজারের কারণে বাসস্থান ধ্বংস ও বক শিকারের কারণে বক আজ আমাদের পরিবেশ থেকে হারাতে চলেছে। বক প্রজাতি রক্ষার্থে জনগণের সচেতনতা একান্ত দরকার।